হলের শিক্ষার্থীরা শুধু প্যারাসিটামলেই সীমাবদ্ধ: হাসনাত আবদুল্লাহ

হলের শিক্ষার্থীরা শুধু প্যারাসিটামলেই সীমাবদ্ধ: হাসনাত আবদুল্লাহ

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৭:৫৫

হলে থাকা শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা সীমাবদ্ধ হয়ে আছে মাত্র একটি ট্যাবলেটে—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে কোনো ফার্মেসি নেই, আর মেডিকেল সেন্টারে যেকোনো অসুখেই দেওয়া হয় শুধু প্যারাসিটামল। এই অবহেলা ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কমল মেডিএইড আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসনাত এসব বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকা শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তখন তারা বিষয়টি ঠিকমতো বুঝতে পারে না—হল থেকে বের হওয়ার পরই এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এনসিপির এই নেতা মনে করেন, হলে থাকা শিক্ষার্থীদের খাবার ব্যবস্থাই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। হলের রান্নায় একটাই ঝোল, কখনো মাছ, কখনো মুরগি, কখনো গরু—সবই একই ঝোলে দেওয়া হয়। যারা বাইরে থেকে আসে, তারা লাইব্রেরির সামনে স্যান্ডউইচ খায় বা শ্যাডো থেকে কিছু নেয়। অসুস্থ হলে আমাদের একটাই ঠিকানা—মেডিকেল সেন্টার, আর সেখানে যেকোনো অসুখের চিকিৎসা বলতে প্যারাসিটামল।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, হলে থাকার সময় অনেক কিছুই বোঝা যায় না। প্রাণোচ্ছ্বল পরিবেশে নিজেদের সুস্থ মনে হলেও বাইরে বের হওয়ার পর বুঝতে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা-পরিকাঠামোর দুর্বলতা শিক্ষার্থীদের স্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনে। পরে দেখা যায় প্রায় সময়ই চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে থাকতে হচ্ছে।

হাসনাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখনো পর্যন্ত হলপাড়াসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ফার্মেসিও নেই। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১০৪ বছর পরও ফার্মেসি নেই। কোনো রাত দুইটা–তিনটা বাজে অসুস্থ হলে আমাদের ঢাকা মেডিকেলে যেতে হয়। আছে একটিমাত্র ফার্মেসি, যা এলিট শ্রেণির জন্য—শিক্ষকদের জন্য নির্দিষ্ট। আমরা গেলেও সেখানে অস্বস্তিকর লাগে।

হাসনাত বলেন, ডাকসু নির্বাচনের সময় ফার্মেসি স্থাপনের প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। এমন বাস্তবতায় কমল মেডিএইড যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ মানসিক স্বাস্থ্যকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানাবিধ মানসিক চাপে থাকে—শিক্ষার চাপ, আর্থিক সংকট, পারিবারিক চাপ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সমস্যা, রাজনৈতিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে অনেকেই মানসিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যায়। কিন্তু তাদের কথা কেউ শোনে না।

হাসনাত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের আমাদের এক তরুণ ভাই হাজারীবাগে মসজিদ থেকে পড়ে আত্মহত্যা করেছিল। এই ঘটনাই দেখায় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আরও কাজ করা কত জরুরি।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল মনে করা হয়, তাই তাদের কথা শোনার মানুষ থাকে না। অথচ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করলে এটি তাদের জন্য বড় সহায়তা হবে।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ইতিবাচক উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সমালোচনা ও প্রশংসা—দুইই থাকা উচিত। জবাবদিহির সংস্কৃতি থেকেই শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত হবে, যা জাতীয় স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading