রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক বরখাস্ত, দুই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক বরখাস্ত, দুই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১১:৫৭

ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দুই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল, একজনকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ পাঁচজনকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে শান্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে বুধবার রাতে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৪তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অনীক কৃষ্ণ কর্মকারকে ৩ বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত ও ১০ বছর পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাষ কুমার কর্মকার ও ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দুই শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল, এক শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও দুই শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। সিন্ডিকেটের তারিখ থেকে উল্লিখিত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সহযোগী অধ্যাপক অনীক কৃষ্ণ কর্মকারের বিরুদ্ধে শিক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন যোগ্যতার ফলাফল না থাকা, শিক্ষার্থীদের সাথে অশিক্ষকসুলভ আচরণ ও শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়াসহ নানান অভিযোগে গত বছরের অক্টোবরের দিকে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমার কর্মকারের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে নিজের ব্যক্তিগত কক্ষে ডেকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে চলতি বছরের আগস্ট মাসে। পরে এ ঘটনার পর সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ১৩ আগস্ট ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন এবং ওই সময় ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন।

গত ১১ মে ফাইন্যান্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হেদায়েত উল্লাহ এবং একই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের ৩০৭ নম্বর কক্ষে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে আটক করা হয়। এ ঘটনার তদন্তে একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এ শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, বিভিন্ন অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা চাইছি শিক্ষার্থীদের নামগুলো গোপন থাকুক। কারণ, তাঁদের মধ্যে নারী শিক্ষার্থীও রয়েছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading