ভোমরা শুল্ক স্টেশনকে কাস্টমস হাউস ঘোষণা, ২ মাসেও নিয়োগ হয়নি কমিশনার
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৬:০৫
সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস হাউস হিসেবে ঘোষণা করে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করলেও এখনো কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে বন্দরের কার্যক্রমের পরিধি বাড়েনি। উল্টো চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং আমদানিপণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শত শত বন্দর শ্রমিক, সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী এবং বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের যাত্রা শুরু হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্ডিয়ার সঙ্গে সবচেয়ে কম দূরত্বের এই বন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার ছিল। অবশেষে গত ১৪ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারির মধ্য দিয়ে ভোমরা শুল্ক স্টেশনকে ‘কাস্টমস হাউস’ হিসেবে উন্নীত করা হয় এবং কমিশনারসহ নতুন কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপন জারির দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো নিয়োগ হয়নি।
এদিকে চাল আমদানি বন্ধ হওয়ার পর থেকে ভোমরা বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক পণ্য নিয়ে প্রবেশ করত, বর্তমানে তা ১৫০-এ দাঁড়িয়েছে। কাজ না থাকায় দিনমজুর শ্রমিক ও কর্মচারীরা বিপাকে পড়েছেন।
আমদানিকারক ও শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত কমিশনার নিয়োগ করে বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। কমিশনার নিয়োগ হলে সব ধরনের পণ্য আমদানি করার সুযোগ তৈরি হবে। এতে কাজের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের অর্থকষ্টও দূর হবে।
ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু হাসান বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন যখন জারি হয়েছে, তখন আশা করছি দ্রুতই কমিশনার নিয়োগ হবে। কমিশনার নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে সব ধরনের পণ্য আমদানি শুরু হলে বর্তমান সংকট কেটে যাবে।’
এ বিষয়ে ভোমরা স্থলবন্দরের কর্মকর্তা (এপি) আতিকুল ইসলাম জানান, কাস্টমস হাউস ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ আধুনিক ওয়্যারহাউস, ওপেন ইয়ার্ড, বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ান ট্রাক টার্মিনালসহ অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছে।
ইউডি/রেজা

