তফসিলের পর ইসির নিয়ন্ত্রণে যা থাকবে
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ২০২৫, আপডেট ২৩:৫৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি একদিনেই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়েই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ন্ত্রণে গেছে কিছু ক্ষমতা।
নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সংবিধান এবং আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (আরপিও) এর ৪৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের সময়সূচি জারি হওয়ার পর থেকে ফল ঘোষণার পর ১৫ দিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ব্যতিরেকে বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং তাদের অধীন কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলি করা যাবে না।
সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ এবং আরপিওর ৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনের কাজে সহায়তা দেওয়া নির্বাহী বিভাগের কর্তব্য। আর এই বিধান সাধারণত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর কার্যকর হয়ে থাকে।
এদিকে গত রবিবার (৭ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রি. জে. (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আচরণবিধি প্রতিপালন ও নিশ্চিত করার জন্য তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকে প্রতিটি উপজেলা বা থানায় দুজন করে ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবেন। ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা শেষ পাঁচ দিন, অর্থাৎ নির্বাচনের আগের তিন দিন, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনের পরের দিন বেড়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি এলাকায় সোশ্যাল সেফটি নেটওয়ার্ক ছাড়া সব ধরনের অনুদান, ত্রাণ ইত্যাদি বিতরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। এ ছাড়া তফসিল ঘোষণার পর উপদেষ্টা পরিষদ নতুন কোনও প্রকল্প অনুমোদন করতে পারবে না।
অন্যদিকে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ ও আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই নির্দেশনা কেউ লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি।
এছাড়া নির্বাচনের প্রয়োজনের কমিশন কোনও সহায়তা চাইলে সেটা সংশ্লিষ্ট দফতর কিংবা সরকার প্রতিপালন করতে বাধ্য থাকে বলেও জানা যায়।
ইউডি/এবি

