কর্মীদের কর্মবিরতিতে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ, বিপাকে যাত্রীর

কর্মীদের কর্মবিরতিতে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ, বিপাকে যাত্রীর

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৮:১০

বেঁধে দেয়া সময়ে ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি-বিধিমালা’ প্রণয়ন ও প্রকাশ না করায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রেখে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) বেলা ৩টা থেকে উত্তরার দিয়াবাড়িতে ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এসময় এমডিকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিটি মেট্রো স্টেশনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এতে বেড়েছে যাত্রী ভোগান্তি। স্টেশনে এসে ট্রেন বন্ধ দেখে বিকল্প যানবাহনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।

মেহেদী হাসান নামে একজন বলেন, ‘আজ ছুটির দিনে বাচ্চাদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। মেট্রোরেলে চড়ার কথা ছিল। কিন্তু এসে দেখি মেট্রোরেল বন্ধ। বাচ্চাদের মন খারাপ হয়ে গেছে।’ সোহাগ আলী নামে একজন বলেন, ‘জরুরি কাজে দ্রুত শাহবাগ যাওয়া দরকার। কিন্তু মেট্রোরেল বন্ধ। তাই ঝামেলায় পড়ে গেলাম।’

স্বয়ংসম্পূর্ণ চাকরি-বিধিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশের দাবিতে শুক্রবার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি এবং সব ধরনের যাত্রী সেবা বন্ধের ঘোষণা দেন ডিএমটিসিএলের নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে প্রতিদিন ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করারও ঘোষণা দেন তারা। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল প্রতিষ্ঠার ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির ৯০০-র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এখনো কোনো স্বতন্ত্র চাকরি-বিধিমালা চূড়ান্ত হয়নি। ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক অপারেশন শুরু হওয়ার পর থেকে উন্মুক্ত নিয়োগে যোগ দেয়া এসব কর্মচারী দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। তবুও ছুটি, সিপিএফ, গ্র্যাচুইটি, শিফট-অ্যালাউন্স/ওভারটাইম, গ্রুপ ইনস্যুরেন্সসহ নানামুখী মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কর্মীরা।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে সার্ভিস রুল প্রণয়নের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কর্মচারীরা আন্দোলনে নামলে ২০ ফেব্রুয়ারি কর্তৃপক্ষ ২০ মার্চের মধ্যে সার্ভিস রুল চূড়ান্তের আশ্বাস দেয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ৯ মাস ধরে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading