রামপুরায় ২৮ হত্যা: বিজিবি কর্মকর্তাসহ ৪ জনের বিচার শুরুর আদেশ

রামপুরায় ২৮ হত্যা: বিজিবি কর্মকর্তাসহ ৪ জনের বিচার শুরুর আদেশ

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৭:৩৫

জুলাই-অগাস্টে আন্দোলনের মধ্যে রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর জন্য আগামী ২০ জানুয়ারি দিন রেখেছে আদালত; ওইদিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করা হবে।

বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম মুন, ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান।

চারজনের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন রেদোয়ানুল ইসলাম ও মো. রাফাত বিন আলম। সকালে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেল থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। এছাড়া পুলিশের দুই কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম ও মো. মশিউর রহমান পলাতক আছেন।

দিনের কার্যক্রমের শুরুতে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে দেয় ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর আবদুল্লাহ আল নোমান, সহিদুল ইসলামসহ অন্যরা।

গ্রেপ্তার দুজনের পক্ষে আইনজীবীরা হলেন হামিদুল মিসবাহ এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
পরে কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “১৮ ও ১৯ জুলাই রামপুরায় বিজিবি ছাত্র-জনতার ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। এ মামলায় দুই বিজিবি কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আগামী ২০ জানুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে।” গেল ২১ ডিসেম্বর পলাতক দুই আসামির পক্ষে মো. আমির হোসেন এবং উপস্থিত দুই আসামির জন্য হামিদুল মিসবাহ অব্যাহতির আবেদন করেন।

এর আগে ৬ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জের ওপর শুনানি শেষ করেন প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ান ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতকদের হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রামপুরায় নিহত হয়েছেন ২৮ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এই ঘটনায় বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ানুলকে আন্দোলনকারীদের ‘সরাসরি গুলি করতে দেখা যায়’।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading