নিস্তব্ধ ‘ফিরোজা’; স্মৃতিতে ভাসছেন খালেদা জিয়া
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৮:০০
রাজধানীর গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ এখন গভীর শোক ও নীরবতায় আচ্ছন্ন। বাড়ির চারপাশ, বাগান, আসবাবপত্র কিংবা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন নেই—শুধু নেই বাসার প্রাণকেন্দ্র বেগম খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গুলশানের এই বাসভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকাজুড়ে এক বেদনাবিধুর পরিবেশ। প্রহরীরা যথারীতি দায়িত্ব পালন করলেও তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট বিষণ্নতার ছাপ। অনেকেই কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ঢাকার সেনানিবাসের বাসভবন ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর থেকেই ‘ফিরোজা’ ছিল খালেদা জিয়ার স্থায়ী ঠিকানা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা অধ্যায়, কারাবরণ ও চিকিৎসাজনিত মুক্তির পর এই বাড়িতেই তিনি ফিরেছিলেন। আজ সেই ফিরোজা নিঃশব্দ সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে তার অনুপস্থিতির ভার বহন করে।
নিরাপত্তা কর্মীদের একজন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ম্যাডাম সব সময় আমাদের খোঁজখবর নিতেন। আজ তিনি নেই, পুরো বাড়িটা যেন শূন্য হয়ে গেছে।
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ফিরোজার প্রতিটি কোণে বেগম জিয়ার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন যারা তার সান্নিধ্যে ছিলেন, তাদের জন্য এই শূন্যতা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
গুলশান এলাকার অনেক বাসিন্দাকেও নিরবে শোক জানাতে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তারা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং দেশের রাজনীতির এক অধ্যায়ের সমাপ্তি।
এদিকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়েও শোকের আবহ বিরাজ করছে। কালো পতাকা উত্তোলন, জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। খোলা হয়েছে শোক বই, যেখানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা স্বাক্ষর করছেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। পরদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে তাকে জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
ইউডি/এআর

