‘ভুল স্বীকার করলেও আ. লীগের আর কোনো মূল্য নেই’
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৭:০০
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, মানুষ ভুল করলে সাধারণত ক্ষমা চায় বা অনুতপ্ত হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ মাস পার হয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ তাদের দ্বারা সংঘটিত হত্যা ও গুমের ঘটনায় কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। এমনকি শান্তিপূর্ণ থাকার বার্তাও দেয়নি।
তিনি বলেন, এখন যদি আওয়ামী লীগ এসে ভুল স্বীকার করে বা ‘সরি’ বলে, তার আর কোনো মূল্য নেই। সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে এবং তাদের মনোনয়নের সুযোগও শেষ হয়ে গেছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকার গৌর গোপাল সেবা আশ্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ তিনি দেখছেন না। মানুষের কাছে দলটির গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে গেছে। বিদেশে অবস্থানরত দলটির নেতাকর্মীরা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা দাবি করছে তিন হাজার পুলিশ নিহত হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। পাশাপাশি আন্দোলনে অংশ নেওয়া লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তাদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায়। এসব কারণে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে আর গ্রহণ করবে না।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ না থাকলে নির্বাচন গুরুত্বহীন হয়ে যাবে—এমন ধারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই। বরং জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতা চালায় এবং গুম-খুন ও গণহত্যার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তবে কোনো সভ্য রাষ্ট্রই তাকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে না। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগ নিজেরাই নিজেদের নির্বাচনের অযোগ্য প্রমাণ করেছে।
প্রেস সচিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষ হলে তিনি আবার সাংবাদিকতায় ফিরতে চান।
এর আগে শফিকুল আলম গৌর গোপাল সেবা আশ্রমের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং আশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আশ্রমের ধর্মীয় ও মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পরিদর্শন শেষে তিনি শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের চৌগাছিতে নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
ইউডি/এআর

