বাজারে মিলছে না ১২ কেজির সিলিন্ডার, দাম ঠেকেছে ২ হাজারে
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৩ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৮:২৫
গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের সংকট এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ২৫৩ টাকার সিলিন্ডার কোথাও কোথাও বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়। তবুও অনেক ভোক্তা বাড়তি দাম দিয়েও কিনতে পারছেন না।
ভোক্তারা বলছেন, এক দোকান থেকে আরেক দোকান ঘুরেও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে রান্নার গ্যাস সংকটে পড়েছেন অনেক পরিবার।
খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা জানান, জাহাজ সংকটের কারণে গত ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। এর মধ্যে কিছু জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। পাশাপাশি বসুন্ধরাসহ কয়েকটি বড় কোম্পানি সাময়িকভাবে এলপিজি আমদানি বন্ধ রেখেছে। এতে পরিবেশকরা প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য পাচ্ছেন না, যা খুচরা বাজারে সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশকে (লোয়াব) চিঠি দিলেও খুচরা পর্যায়ে এখন পর্যন্ত এর কোনো দৃশ্যমান প্রভাব দেখা যায়নি।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বেক্সিমকো, বসুন্ধরা ও ইউনিটেক্সের মতো বড় সরবরাহকারীরা আমদানি বন্ধ বা সীমিত রাখায় পরিবেশকরা চাহিদার তুলনায় খুব সামান্য গ্যাস পাচ্ছেন।
পরিবেশকরা বলছেন, তারা কোম্পানিগুলো থেকে চাহিদার তুলনায় গ্যাস পাচ্ছেন খুব সামান্য। কোনো কোনো পরিবেশক সিলিন্ডারই পাচ্ছেন না।
ঢাকা শহরের মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, গত ২ জানুয়ারি ১৫টি দোকান ঘুরে ২ হাজার টাকায় একটি সিলিন্ডার কিনেছেন। তিনি বলেন, কয়েক দোকানে ফোন করে সিলিন্ডার পাইনি। বাধ্য হয়ে খুঁজতে বের হয়েছি। অনেক দোকানে নেই, আবার দ্বিগুণ দাম চায়।
চট্টগ্রামের কর্নেল হাট এলাকার বাসিন্দা মামুনুর রহমান জানান, গত মাসে যে সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫০ টাকায় কিনেছিলাম, গতকাল সেটি কিনতে ১ হাজার ৫৫০ টাকা খরচ হয়েছে।
এলপিজি পরিবেশক সমিতির সভাপতি সেলিম খান বলেন, অধিকাংশ কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত রেখেছে। ট্রাক গিয়ে বসে থাকছে, খরচ বাড়ছে। তিনি সরকারের কাছে খুচরা বিক্রেতাদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান।
এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশীদ জানান, সাধারণত শীত মৌসুমে এলপিজির চাহিদা বাড়ে, তবে বর্তমানে আমদানির জাহাজ সংকটে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ২৯টি জাহাজের মধ্যে বেশিরভাগই ফাঁকা পড়ে রয়েছে, ফলে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজি সরবরাহ সংকটের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের চিঠি পাঠিয়েছে, তবে খুচরা পর্যায়ে এর কোন দৃশ্যমান প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। বিইআরসি, প্রতিটি পর্যায়ে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। তবে বাস্তবতা হল, বাজারে নজরদারি কার্যকরভাবে না হওয়ায় বাড়তি দাম নেওয়া বন্ধ করা যাচ্ছে না।
এলপিজি সংকটের কারণে সাধারণ জনগণের কাছে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি একটি বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছে, বিশেষত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বাড়ার কারণে দেশে এলপিজির দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলপিজি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে, দেশের ভোক্তা সমাজে আরও ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, এবং শীঘ্রই এ সংকটের সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউডি/এআর

