বিদায়ী বছর: সড়কে ঝরেছে ৯ হাজারের বেশি প্রাণ
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৪ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৬:৪০
বিদায়ী ২০২৫ সালে বাংলাদেশের সড়ক পথ যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছিল। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজারের বেশি মানুষ, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি।
বার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারা দেশে মোট ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬.৯৪ শতাংশ এবং নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ৫.৭৯ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারা দেশে মোট ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন।
২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬.৯৪ শতাংশ এবং নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ৫.৭৯ শতাংশ।প্রতিবেদনে দেখা যায়, দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মোটরসাইকেল।
২ হাজার ৪৯৩টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ। ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত ও ১৪৫ জন আহত হয়েছেন।বিভিন্ন নৌ-দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৮ জন।
সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে মোট ৭ হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ৭৫৪ জন নিহত এবং ১৫ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছেন।নিহতদের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছেন ১ হাজার ৬৯১ জন চালক, ১ হাজার ২১৬ জন পথচারী, ৮৩২ জন শিক্ষার্থী, ১০৫৬ জন নারী এবং ৬২২ জন শিশু।
এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিৎসক এবং প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও এই তালিকায় রয়েছেন।
মোট দুর্ঘটনার ৩৮.২২ শতাংশ ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। ২৭.১৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক মহাসড়কে।২৮.৮৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে ফিডার রোডে।
ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মহাসড়কে এগুলোর অবাধ চলাচলকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ঘটনার হার গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, এসব দুর্ঘটনায় প্রতি বছর দেশের প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই ভয়াবহতা কমাতে হলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে সড়ক নিরাপত্তা ও উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে ভাড়া নির্ধারণ ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণসহ পরিবহন খাতের প্রতিটি নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের পাশাপাশি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি রাখার জোর দাবি জানানো হয়।
ইউডি/এআর

