বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার খরচ বহনে ইসির সিদ্ধান্ত অপরিণামদর্শী

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার খরচ বহনে ইসির সিদ্ধান্ত অপরিণামদর্শী

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারী, ২০২৬, আপডেট ২১:০০

বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংসকারী কর্তৃত্ববাদী চর্চা অব্যাহত রেখে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার ব্যয়ভাব বহনের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী, বৈষম্যমূলক ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সরব উপস্থিতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির ঠুনকো যুক্তিতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার খরচ বহনের নির্বাচন কমিশনের অবিমৃশ্যকারী সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হতে বাধ্য। অধিকন্তু এ সিদ্ধান্ত যে বৈষম্যমূলক, নির্বাচন কমিশন তা অনুধাবন করতে না পারায়, আমরা বিস্মিত হয়েছি। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করতে পারলে দেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা কেন প্রযোজ্য হবে না? এ প্রশ্নের জবাব নির্বাচন কমিশন কীভাবে দেবে। তা ছাড়া, এ সিদ্ধান্ত বলবৎ হলে একদিকে সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তগণ ভাড়াটে হিসেবে পরিগণিত হওয়ার যেমন ঝুঁকিতে থাকবেন, অন্যদিকে তারা নির্বাচন কমিশনের আতিথেয়তায় স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত থেকে কতটা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনকে মূল্যায়ন করতে সক্ষম হবেন, সে ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিকট আমাদের জিজ্ঞাসা, তারা কোন যুক্তিতে ইসি বা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এ ধরনের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চাইবেন? তারা কী নৈতিকতার মানদণ্ড ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব বিবেচনায় এরূপ আতিথেয়তা গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন তথা সার্বিকভাবে নির্বাচনের বস্তুনিষ্ঠ, নির্মোহ, পক্ষপাতহীন ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে পারবেন? আমরা আশা করি তারা ইসির এ ধরনের আতিথেয়তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন এবং তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।’

২০০৮ বা তার পূর্বে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করে নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করার এই প্রচেষ্টার দরকার হয়নি, অথচ ২০১৮ ও ২০২৪ সালে বিদেশিদের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের প্রয়োজন কেন হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনকে সর্বপ্রথম এ বিষয়ে আত্মজিজ্ঞাসা করতে হবে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের পতিত সরকারের প্রচেষ্টা কতটুকু সার্থক হয়েছিল, আশা করছি বর্তমান কমিশন তা উপলব্ধি করতে ব্যর্থতার পরিচয় দেবে না। একইসঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলে জনমনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার যে বিশাল আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়েছে, তা বিতর্কিত করার পথ থেকে ইসি সরে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading