বেগম জিয়া কখনো রাজনীতিকে প্রতিহিংসার হাতিয়ার করেননি: জিয়াউদ্দিন

বেগম জিয়া কখনো রাজনীতিকে প্রতিহিংসার হাতিয়ার করেননি: জিয়াউদ্দিন

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১০ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৩:৪০

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৌজন্য, শালীনতা ও সহিষ্ণুতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি রাজনীতিকে কখনো প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি, বরং ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করার শিক্ষা দিয়েছেন। ক্ষমতার বাইরে থেকেও তিনি কখনো আপস করেননি, আবার ক্ষমতায় থেকেও অহংকারে ভেসে যাননি। এই ‘আপোষহীন’ অথচ সৌজন্যপূর্ণ রাজনৈতিক চরিত্রই তাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রমী ও অনন্য অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নালছিটি মার্চেন্ট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নালছিটি উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবরণ, নির্যাতন ও সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়েই বেগম খালেদা জিয়া নিজেকে শুধু বিএনপির নেত্রী হিসেবে নয়, বরং দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের কাছে একজন শ্রদ্ধেয় জাতীয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার নেতৃত্বে রাজনীতি কখনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়নি; বরং জনমানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তিনি সব সময় দৃঢ় অবস্থানে থেকেছেন।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দুটি স্বৈরাচারী শাসন-জেনারেল এরশাদ এবং শেখ হাসিনার শাসনামল—বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন রাজনৈতিক অবস্থান ও দৃঢ়তার মুখেই শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে তার নেতৃত্ব কেবল আবেগনির্ভর নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাহসিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি কখনো গণতন্ত্রের প্রশ্নে পিছপা হননি এবং কোনো চাপের মুখেও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার নেতৃত্বে দেশের মেয়েদের শিক্ষায় খাদ্য সহায়তা ও নগদ সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পায়, যা নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, টিকাদান কর্মসূচির বিস্তার এবং শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলো দেশের জনস্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এই রাজনৈতিক ও উন্নয়ন দর্শনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বেগম খালেদা জিয়া ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান অনুসরণ করে এবং বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে অধ্যয়ন করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসছেন। এসব পরিকল্পনায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা, খাল ও নদী খনন, বৃক্ষরোপণ, ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলা এবং খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জীবনযাত্রা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে বিএনপি এসব খাতে উদ্ভাবনী ও সংস্কারমূলক প্রকল্প গ্রহণ করবে, যাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি আধুনিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পায়। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হবে মানুষের মৌলিক অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা।

সভা চলাকালে গোলযোগ সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন এখনো সময় আছে, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে বিনয়ী হওয়ার চেষ্টা করুন। এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শোক সভায় সাত হাজারের বেশি পুরুষ ও নারী অংশগ্রহণ করেন। নারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। নালছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হেলাল খান সভায় সভাপতিত্ব করেন। ঝালকাঠি-২ আসনের মনোনীত এমপি প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো এবং ঝালকাঠি-১ আসনের মনোনীত এমপি প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো তার বক্তব্যে শোক সভার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকা ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে রফিকুল ইসলাম জামাল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারের বিষয়ে তার মতামত তুলে ধরেন।

সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া ও তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবন স্মরণ করেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে দোয়া মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিশেষ মোনাজাতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ বিএনপির প্রয়াত নেতৃবৃন্দের আত্মার শান্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading