আমেরিকার ওপর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি ইইউর
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬, আপডেট ২২:৪৫
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
ন্যাটো বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনায় ট্রাম্প বাধা দিলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাটোর সম্ভাব্য একটি মিশন গঠনের বিষয়ে বিট্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররা আলোচনা চালাচ্ছে।
এই উদ্যোগে আমেরিকা বাধা সৃষ্টি করলে ইইউ কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট ইউরোপীয় সহযোগীদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে।
এর মূল লক্ষ্য আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ন্যাটোর উপস্থিতি বৃদ্ধি করা।ইতোমধ্যে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জার্মানি ও ফ্রান্সসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ন্যাটোর জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য মিশনের কাঠামো প্রস্তুত করছেন, যার আওতায় গ্রিনল্যান্ডে সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েন করা হতে পারে।
যদিও পরিকল্পনাগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে ইউরোপীয় দেশগুলো আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছে।
তাদের ধারণা, ন্যাটোর দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ালে গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ কমতে পারে।এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ব্রিটেন নিয়ন্ত্রণ না নিলে রাশিয়া বা চীন সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তার ভাষায়, ‘আমরা রাশিয়া বা চীনের প্রতিবেশী হতে দিতে পারি না।’
গ্রিনল্যান্ডে তামা, নিকেল ও আধুনিক প্রযুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিরল মাটির খনিজসহ বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের কারণে অঞ্চলটি বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরকারি সূত্র জানায়, ব্রিটেনের লেবার নেতা কিয়ার স্টারমার আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্রিটিশ সরকারি সূত্র টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমরা একটি বিষয়ে একমত—উত্তরাঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে।
এই আগ্রাসন প্রতিহত করা এবং ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ন্যাটো মোতায়েনের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করলে ইইউ মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।
এতে মেটা, গুগল, মাইক্রোসফট ও এক্সের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইউরোপে কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি আমেরিকান ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সবচেয়ে কঠোর বিকল্প হিসেবে ইউরোপ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলোর ব্যবহার মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে যেতে পারে।
ইউডি/এআর

