সাধারণ্যেই অসাধারণ তারেক রহমান
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১২ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৬:৪০
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক বয়ানের বাইরে এসে ইতিবাচক রাজনীতির এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরে হিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতি এড়িয়ে শান্তি, ঐক্য ও সহনশীলতার বার্তা দিয়ে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে তারেক রহমানকে নানা অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হলেও, দেশে ফেরার পর তার বক্তব্য ও আচরণে ভিন্ন এক চিত্র দেখছে সাধারণ মানুষ।
মার্জিত ভাষা, সংযত আচরণ এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো কটূক্তি না করে ঐক্যের আহ্বান—এসবই তাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার সংক্ষিপ্ত ও পরিমিত বক্তব্য, মায়ের জানাজায় সংযত ভাষণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশে যাওয়ার ভঙ্গি প্রশংসিত হয়েছে।
বিশেষ করে ১০ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হোটেলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তার ব্যতিক্রমী আচরণ আলোচনায় আসে।
নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি মঞ্চে ওঠার আগে পুরো মিলনায়তনে ঘুরে ঘুরে অতিথিদের সঙ্গে সালাম ও কুশল বিনিময় করেন।
সম্পাদক থেকে শুরু করে ক্যামেরাপারসনদের সঙ্গেও ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন তিনি, যা উপস্থিত অনেককে আবেগাপ্লুত করে।অনুষ্ঠানে নিরাপত্তার জন্য মঞ্চের সামনে দেওয়া ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর বার্তাও দেন।
বক্তব্যের সময় তার বিরুদ্ধে করা সমালোচনাও মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নোট নেন। এমনকি প্রশ্নের সময় ‘মাননীয়’ সম্বোধন ব্যবহার না করতেও অনুরোধ করেন।অনুষ্ঠান শেষে মঞ্চ ছেড়ে সাংবাদিকদের টেবিলে বসে আড্ডা দেওয়া এবং কয়েকজন সম্পাদকের সঙ্গে একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়াও ছিল ব্যতিক্রমী।
গণমাধ্যমের অনেকেই তার এই আচরণ ও বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন। তবে অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু অসন্তোষও প্রকাশ করা হয়, বিশেষ করে আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের সামনের সারিতে বসার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে।
সামগ্রিকভাবে, গণমাধ্যমের সঙ্গে এই মতবিনিময়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারেক রহমানের প্রশংসায় সরব হয়েছেন অনেকেই। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে নতুন করে এক ‘সাধারণ অথচ ব্যতিক্রমী’ নেতৃত্ব হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইউডি/এআর

