ট্রাম্প আতঙ্ক, আলাদা বাহিনী বানাচ্ছে ইউরোপ?

ট্রাম্প আতঙ্ক, আলাদা বাহিনী বানাচ্ছে ইউরোপ?

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ০৯:২০

ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবং আমেরিকার ও ন্যাটোর ওপর নির্ভরতা কমাতে একটি স্থায়ী ‘ইউরোপীয় সেনাবাহিনী’ গঠনের ডাক দিয়েছেন ইইউ প্রতিরক্ষা কমিশনার আন্দ্রিয়াস কুবিলিয়াস।

সুইডেনে অনুষ্ঠিত এক নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি প্রায় ১ লাখ সদস্যের একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত বাহিনী গড়ে তোলার প্রস্তাব পেশ করেন। কুবিলিয়াস মনে করেন, ইউরোপের ২৭টি দেশের বিচ্ছিন্ন এবং ছোট আকারের সেনাবাহিনীর পরিবর্তে একটি সুসংগঠিত ইউরোপীয় শক্তি এখন সময়ের দাবি। তার মতে, বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইউরোপকে স্বায়ত্তশাসিত ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হতে হবে।

প্রতিরক্ষা কমিশনার তার বক্তব্যে সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর দীর্ঘদিনের দাবির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য একটি আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি শুধু সেনাবাহিনী গঠনই নয় বরং ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল নামে ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি নীতিনির্ধারক কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দিয়েছেন। যেখানে ইইউ সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কুবিলিয়াস সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইউক্রেন সংকটের পরেও রাশিয়া তার যুদ্ধকালীন অর্থনীতি বজায় রাখবে, তাই ইউরোপকে দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতির দিকে নজর দিতে হবে। যদিও মস্কো এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

ইউরোপের এই নতুন সামরিক ভাবনার পেছনে আমেরিকার সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতির বড় প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কঠোর অবস্থান এবং ন্যাটোর প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে ক্রমাগত চাপের মুখে ইউরোপীয় নেতারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ১ লাখ আমেরিকার সেনা মোতায়েন থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় না করলে এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখা কঠিন হবে। এই অনিশ্চিত আটলান্টিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে ইউরোপ এখন নিজস্ব সামরিক শক্তিতে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজছে।

সূত্র: আরটি

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading