ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের শুল্কের ঘোষণায় ইন্ডিয়ার চিন্তা বাড়ল

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের শুল্কের ঘোষণায় ইন্ডিয়ার চিন্তা বাড়ল

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৬:১০

ইরানের ওপর আমেরিকার বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা ইন্ডিয়ার চিন্তা নতুন করে বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এর ফলে কি ইন্ডিয়ার ওপর চাপানো শুল্কহার ৫০ থেকে বেড়ে ৭৫ শতাংশ হয়ে যাবে?

দুশ্চিন্তা বৃদ্ধির কারণ গতকাল সোমবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা। নিজের মালিকানাধীন ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, পৃথিবীর যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখবে, তাদের ওপর আমেরিকা অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কহার চাপাবে।

ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ওইসব দেশকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য করতে হলে বাড়তি এই শুল্ক দিতে হবে। সিদ্ধান্ত সোমবার রাত থেকেই কার্যকর হবে এবং এর নড়চড় হবে না।

দুই সপ্তাহ ধরে ইরান জনবিক্ষোভে উত্তাল। বিক্ষোভের সামাল দিতে ইরান সরকার হিমশিম খাচ্ছে। ব্যাপক দমনপীড়নের অভিযোগ উঠছে। ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৬০০ বিক্ষোভকারীর। ইরানের এই বিক্ষোভে সরাসরি মদদ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার তেহরানকে চাপে রাখতে তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোকেও তিনি বাড়তি শুল্কের হুমকির মুখে ফেলে দিলেন।

এতেই গাঢ় হয়েছে ইন্ডিয়ার কপালের ভাঁজ। এমনিতেই ইন্ডিয়ান পণ্যের শুল্ক ২৫ শতাংশ ধার্য করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, ইন্ডিয়া ‘ট্যারিফ কিং’। এরপর রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় জ্বালানি তেল কেনার শাস্তি হিসেবে ইন্ডিয়ান পণ্যের ওপর তিনি বাড়তি ২৫ শতাংশ জরিমানা শুল্ক ধার্য করেন।

সেই অবস্থা থাকতে থাকতেই গতকাল সোমবার গভীর রাতে ইরানকে শাস্তি দিতে তাঁর সহযোগী দেশের ওপর আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক জারির ঘোষণা করা হলো। ইন্ডিয়ার কাছে এই ঘোষণা বোঝার ওপর শাকের আঁটির শামিল।

ইরান অনেক দিন ধরেই ইন্ডিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক মিত্র। চাল রপ্তানিতে ইন্ডিয়া পৃথিবীর এক নম্বর দেশ হিসেবে উঠে এসেছে প্রধানত ইরানের জন্যই। ইন্ডিয়া থেকে তারা বাসমতী চাল কেনে। আগের তুলনায় এই রপ্তানি বেড়ে গেছে।

এই মুহূর্তে বিশ্বে চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের অবদান ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ। বাসমতী চাল ছাড়াও ইন্ডিয়া রপ্তানি করে চা, ওষুধ, তৈরি গয়না, বৈদ্যুতিক যন্ত্র, চিনি ও টাটকা ফল। ইরানের প্রধান পাঁচ বাণিজ্যিক শরিকের অন্যতম ইন্ডিয়া।

এই রপ্তানির পাশাপাশি ইরান থেকে ভারত আমদানি করে আপেল, খেজুর, পেস্তা, কিউইর মতো নানা ধরনের ফল। এ ছাড়া জৈব ও অজৈব রাসায়নিকও ভারত আমদানি করে। আগে ইরান থেকে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি কিনত ভারত। যদিও গত ১০ বছরে তা একেবারেই কমে গেছে।

ইন্ডিয়া-ইরান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ১৭০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দেশ ইন্ডিয়াই। ইরানে তাদের রপ্তানির পরিমাণ ১২৪ কোটি ডলার, আমদানি ৪৪ কোটি ডলারের পণ্য। দুবছর আগেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২৩৩ কোটি ডলার।

ট্রাম্পের এই হুমকির ফলে ইন্ডিয়া-ইরান সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, এখনই বলা কঠিন। দিল্লিতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নিতে গতকাল সোমবারই ইন্ডিয়া এসেছেন সার্জিও গোর। দিল্লি আসার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তিনি বলেছেন, সিলিকন, সেমিকন্ডাক্টর ও কৃত্রিম মেধা প্রযুক্তিতে ইন্ডিয়ার সঙ্গে আমেরিকার জোট বাঁধতে চায়।

নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ওই ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটে পূর্ণ সময়ের সদস্য হওয়ার জন্যও তাঁরা ইন্ডিয়াকে অনুরোধ করবেন। ওই জোটে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন, সিঙ্গাপুর, নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল।

সার্জিও গোর এ কথাও বলেন, বন্ধ থাকা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা মঙ্গলবার (আজ) থেকেই শুরু হবে। কিন্তু এর মধ্যেই ইরান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা নতুন করে চিন্তা বাড়িয়েছে ইন্ডিয়ার।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading