ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত অন্তত ২০০০

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৭:৫৫

ইরানে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা নজিরবিহীন এই অস্থিরতায় নিরাপত্তা কর্মীসহ প্রায় ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন একজন ইরানি কর্মকর্তা। এরমাধ্যমে এই প্রথম ব্যাপক মৃত্যুর সংখ্যা স্বীকার করল ইরানি কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা কর্মী উভয়ের মৃত্যুর পিছনেই দায়ী সন্ত্রাসীরা। তবে কত জন বিক্ষোভকারী ও কত জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন তার বিস্তারিত বিবরণ তিনি দেননি।

এর আগে আমেরিকাভিত্তি মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ১০ হাজার ৭২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি, তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তেহরানের মর্গগুলোতে কয়েক ডজন লাশের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ তাদের ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। ফলে বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরানের ভেতর থেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছে না এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রসঙ্গত, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতনের পর গত ২৮ জানুয়ারি তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রথমে এ আন্দোলন শুরু করেন। যা অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিচ্ছিলেন, যদি বিক্ষোভকারীদের ইরান সরকার হত্যা করে তাহলে আমেরিকা ইরানে হস্তক্ষেপ করবে। ইতোমধ্যেই ইরানের ওপর চালানো যেতে পারে এমন বেশ কয়েকটি সামরিক ও গোয়েন্দা পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পকে জানিয়েছেন আমেরিকার কর্মকর্তারা।

আমেরিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুইজন কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপের ক্ষেত্রে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এখনো একটি বিকল্প হিসেবে রয়েছে। তবে পেন্টাগন কর্মকর্তারা সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির জন্য প্রচারণার বিষয়েও প্রস্তাব দিয়েছেন।

এছাড়াও সোমবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আরও বিক্ষোভকারী নিহত হলে তার সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী বিকল্প বিবেচনা করছে। তার দাবি, ইরানি নেতারা তাকে ‘আলোচনার জন্য ফোন করেছেন’, তবে তিনি যোগ করেছেন যে আমেরিকাকে ‘বৈঠকের আগেই পদক্ষেপ নিতে হতে পারে’।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী, তবে তারা ‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’ অবস্থায়ও রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading