অর্ধশতাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী, কঠিন চ্যালেঞ্জে বিএনপি

অর্ধশতাধিক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী, কঠিন চ্যালেঞ্জে বিএনপি

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৮:০০

নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছে বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় বিদ্রোহীদের বহিষ্কার ও আলোচনার টেবিলে ডেকেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাচ্ছে না দলটি।

দেশের প্রায় অর্ধশতাধিক আসনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের এই অনড় অবস্থান এখন দল মনোনীত ও জোট সমর্থিত প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঢাকা-১২ আসনে মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরবকে শুরুতে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। পরে জোটের সমীকরণে আসনটি বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হকের জন্য ছেড়ে দেওয়া হলে ক্ষুব্ধ নীরব স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন।

সাইফুল আলম নীরব বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিন্তু দলের নেতাদের নির্বাচন নয়। নেতা হয়তো ১৫-২০ জন। এটা জনগণের নির্বাচন, জনগণের চাপের মুখে দাঁড়িয়েছি। যা করবো আমি জনগণের কথামতোই করবো।

এখানে অন্য কোনও কথার কোনও সুযোগ নাই।একইভাবে বিভিন্ন এলাকায় জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আগে থেকেই দ্বন্দ্বে থাকা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ চূড়ান্ত মনোনয়নের পর আরও বেড়েছে। জোটপ্রার্থী মানতে না পেরে অনেক মনোনয়নবঞ্চিত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।

এ অবস্থায় নয়জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিনে দল থেকে বহিষ্কার করে কঠোর বার্তা দেয় বিএনপি। সমঝোতার জন্য আলোচনায়ও ডাকা হয়। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের প্রার্থী আবদুল খালেক ছাড়া কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহারে সাড়া দেননি।

পটুয়াখালী-৩ এর স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বলেন, পার্টি অফিস ভেঙে দেয়া হয়েছিল, নেতাকর্মীদেরকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। থানা বিএনপি বললেই সাধারণ ভোটাররা গণঅধিকারকে ভোট দেবে, এই চিন্তা অবান্তর।

পটুয়াখালী-৩-এ কমপক্ষে পাঁচ লাখ জনগণ আছে, তাদের সঙ্গে মুনাফিকি করে আমার ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনীতি করা সম্ভব না। সুতরাং রাজনীতি করি আর না করি, জনগণের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই।শুধু জোটপ্রার্থী নয়, ধানের শীষের প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও মাঠে নেমেছেন বিএনপির বিদ্রোহী নেতারা। এতে তৃণমূল পর্যায়ে বিভক্তি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

নাটোর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দাউদার মাহমুদ বলেন, আমি মনে করি, আমি বিএনপির পক্ষেই ভোট করছি। কারণ, এখানে আমি ভোট না করলে যাকে ধানের শীষ দিয়েছে, সে হেরে যাবে। তাহলে আমার দল হেরে যাবে। আমার বিশ্বাস যে তারা চিন্তা করে আমাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তারপরও দল যদি সিদ্ধান্ত না নেয়, সেক্ষেত্রে আমাদের তো কিছু করার নেই।

এই প্রেক্ষাপটে দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের লড়াইয়ে ভোট ভাগ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকায় ডেকে এনে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অঞ্চলভিত্তিক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে হাতে গোনা কয়েকজন কম গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহারে সম্মত হলেও অধিকাংশই এখনও অনড়।

তবে দলের শীর্ষ নেতাদের আশা, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সংখ্যা সন্তোষজনক পর্যায়ে নেমে আসবে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনীতিতে শেষ কোনো শব্দ নাই। এটা একটা জায়গা পর্যন্ত থাকবে।

আর মনোনয়নের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দেখবেন সবাই দলের মনোনীত প্রার্থীর সাথেই থাকবে এবং কাজ করবে। স্বাভাবিকভাবে দলের যে গঠনতন্ত্র, সে হিসেবে তো ব্যবস্থা নিতেই হয়। কারণ, দলের শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে তো কোনো রাজনীতি হবে না।

বিএনপি বলছে, দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে ভবিষ্যতে তাদের নানাভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading