ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশপন্থি শক্তিকে প্রতিষ্ঠার ডাক ইশরাকের

ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশপন্থি শক্তিকে প্রতিষ্ঠার ডাক ইশরাকের

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ২০:২০

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে কোনো আপস নয় বলে কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ভোটের মাধ্যমেই বাংলাদেশপন্থি শক্তিকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর ওয়ারীতে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইসরাক হোসেনের নির্বাচনী কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের পরিচিত সভায় ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকেই চায়নি, তারা আবার রাজনীতিতে ফিরে এসে ভোটের মাঠে নামছে। শুধু তাই নয়, তারা মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করেছিল যা ব্যর্থ হয়েছে। তারা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল। অথচ সেই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বড় ও মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

ইশরাক হোসেন বলেন, আমি সেই সময় কারাগারে ছিলাম। তবে খবর রাখতাম সংবাদপত্রের মাধ্যমে, কিছু ভিডিও দেখে, বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে পরিস্থিতি বুঝে নিতাম। কিন্তু কোথাও আমি সেই দলটির কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা দেখি নাই, যারা আজ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, আজ হঠাৎ করে তারা নতুন রিপাবলিক’সহ নানা কথা বলছে আমরা বুঝতে পারি না তাদের এই দুঃসাহস কোথা থেকে আসে। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস এবং ২৬ মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস এই দুটি দিনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো দুঃসাহস তাদের হয়েছে। এই বিষয়গুলো আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।

ইশরাক হোসেন বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, তারা স্বাধীন বাংলাদেশকেই অস্বীকার করে। যারা স্বাধীন বাংলাদেশকে মানে না, তাদের এই দেশে থাকার নৈতিক অধিকারও নেই। কথাগুলো কঠিন, কিন্তু যখন আমরা শুনি মুক্তিযুদ্ধ ভুল ছিল তখন আর কতদিন সহ্য করব? একবার-দুবার ভুল করে বলা যেতে পারে, কিন্তু যখন এটি তাদের রাজনৈতিক বয়ানে পরিণত হয়, তখন সেটা আর দুর্ঘটনা নয়, সেটা বিশ্বাসে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। দেশি-বিদেশি নানা শক্তি এ অঞ্চলে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। আমরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অঞ্চলে অবস্থান করছি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, তবে একটি এজেন্ডাই বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে সবার আগে বাংলাদেশ’। এর বাইরে কোনো এজেন্ডা মেনে নেয়া হবে না। নির্বাচনের পর আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব। আমরা দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলমান, ধনী, গরিব সবাইকে সমান নাগরিকত্ব নিয়ে বাঁচতে দেয়ার যে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, সেই আদর্শ বাস্তবায়ন করব।

তিনি বলেন, আমরা গর্বিত বাংলাদেশি হিসেবে বাঁচতে চাই। আমরা চাই বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে যেখানে আমাদের ভূখণ্ড নিরাপদ থাকবে, সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজনে যদি আবার দেশ রক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে প্রশিক্ষণ নিতে হয়, তাহলে নতুন প্রজন্মকে সেই প্রস্তুতি দেয়ার মতো একটি সংগঠন আমরা গড়ে তুলতে চাই।

মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ইশরাক বলেন, ডিসেম্বরে আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় নিজ নিজ প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। যারা বাংলাদেশ চায়নি, তাদের ষড়যন্ত্র ও দুঃসাহসকে পরাজিত করতে আমাদের দলকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করতে হবে যাতে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গঠনের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কে এম কামরুজ্জামান নান্নুসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading