গ্রিনল্যান্ড দখল রোধে বিল প্রস্তাব মার্কিন সিনেটরদের

গ্রিনল্যান্ড দখল রোধে বিল প্রস্তাব মার্কিন সিনেটরদের

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৪:১৫

আমেরিকার সিনেটররা একটি বিল প্রবর্তন করেছেন, যার লক্ষ্য হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ন্যাটোভুক্ত কোনো সদস্য দেশের ভূখণ্ড দখল করা থেকে বাধা দেওয়া। যার মধ্যে ডেনমার্কের স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডও রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় এই ‘ন্যাটো ইউনিটি প্রটেকশন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং পররাষ্ট্র বিভাগকে কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের ভূখণ্ডকে ‘অবরোধ, দখল, একত্রীকরণ বা অন্য কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার জন্য তহবিল ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহীনের সঙ্গে রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকোস্কি যৌথভাবে এই বিলটি উত্থাপন করেন।

ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে গ্রিনল্যান্ডকে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে আনতেই হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আমেরিকা যদি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না নেয়, তবে চীন বা রাশিয়া এই অঞ্চলের খনিজ সম্পদ ও ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেটর জিন শাহীন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই দ্বিদলীয় আইন স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মার্কিন করদাতাদের অর্থ এমন কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না, যা আমাদের নিজস্ব ন্যাটো প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী’

বিপুল পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলটিকে নিজেদের সম্পদের পাশাপাশি ন্যাটোর উত্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং উত্তর মেরুতে আমেরিকার প্রভাব বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাই গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাব্য হুমকি আমেরিকার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যা ন্যাটোর ভবিষ্যতকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ট্রাম্প ন্যাটো বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কাকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেছেন, আমেরিকা এগিয়ে না আসলে চীন বা রাশিয়া গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তিনি দাবি করে আসছেন, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এই গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রিপাবলিকান সমালোচক আলাস্কার সিনেটর লিসা মারকোস্কি বলেন, ‘ন্যাটো হলো বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মিত্রদের বিরুদ্ধেই আমেরিকা তার বিপুল সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহার করতে পারে, এই ধারণাটাই গভীরভাবে উদ্বেগজনক। কংগ্রেসকে আইনের মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।’

গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দার অধিকাংশই আমেরিকার নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করেছেন। ডেনিশ পত্রিকা বার্লিংস্কের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র ৬ শতাংশের বিপরীতে ৮৫ শতাংশ মানুষ আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত হতে চান না।

এই উত্তেজনার মধ্যে বুধবার ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎসফেল্ট ওয়াশিংটনে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

এছাড়া, শুক্রবার ডেনমার্ক সফরে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস এবং রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসসহ আমেরিকার এক দ্বিদলীয় কংগ্রেস প্রতিনিধিদল।

সূত্র: আল জাজিরা

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading