জোট নয়, এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৬:৪৫
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে থাকছে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের জেরে জোট থেকে বেরিয়ে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে নির্বাচনে ২৬৮ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে ১১দলীয় জোটে থাকছে না ইসলামী আন্দোলন। দলের পক্ষ থেকে ২৭০টি আসনে প্রার্থী দেয়া হয়েছিল। এরমধ্যে দুজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
বর্তমানে যে ২৬৮ জন প্রার্থী আছেন তারা কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না। তিনি আরও বলেন, বাকি ৩২টি আসনেও আমরা সমর্থন দেবো। কাদের সমর্থন দেয়া হবে, সেটা মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেবো।
আমাদের নীতি-আদর্শ এবং লক্ষ্যের সঙ্গে যাদের মিল হবে, তেমন সৎ লোকদের সমর্থন দেয়া হবে। আমরা আশা করি ৩০০ আসনেই আমাদের প্রার্থী থাকবে। যাতে ইসলামের পক্ষে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের ‘ওয়ান বক্স’ নীতির যেন সঠিক বাস্তবায়ন হয়।
জোট ছাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আদর্শিক ও নৈতিকভাবে আমরা কোনো সংগঠনের চেয়ে দুর্বল নই। জামায়াতে ইসলামী আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করবে না বলে জানানো হয়েছে।
এই অবস্থায় আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে জোট করেছিলাম, তা কম্প্রোমাইজ হয়ে যায়। তাই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছি। তবে ১০ দলের জোটের কোনো দলের সঙ্গে বিরোধ নেই বলে জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত আমির বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছেন ‘আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বেগম জিয়ার ঐক্যের পাটাতনে দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করবেন’।
এমন বক্তব্য আমাদেরকে শঙ্কিত করেছে, আগামীতে পাতানো নির্বাচন হবে। আমরা কোনো পাতানো নির্বাচনে কারো সমঝোতার অংশ হতে চাই না৷
গাজী আতাউর আরও বলেন, একটি দলের কর্মকাণ্ড বারবার আমাদের দলের আত্মসম্মানবোধে আঘাত করেছে। কারো অনুগ্রহের আসন নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না।
আমাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় থাকবে। আমাদের দলের সব নেতাকর্মীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, শালীনতাবোধ বজায় রাখার জন্য।
ইউডি/এআর

