গাজা যুদ্ধের বীভৎসতায় ‘পাগল’ হয়ে যাচ্ছে বহু ইসরায়েলি সেনা

গাজা যুদ্ধের বীভৎসতায় ‘পাগল’ হয়ে যাচ্ছে বহু ইসরায়েলি সেনা

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১০:০০

গাজা যুদ্ধের ভয়াবহতায় ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে আত্মহত্যা ও পিটিএসডির প্রবণতা (পোস্ট ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার)। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি চিকিৎসকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, গাজার বাসিন্দারাও এক মনস্তাত্ত্বিক সংকটের আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছেন।

দীর্ঘ দুই বছরের নিরবচ্ছিন্ন হামলা ও যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট এই মানসিক সংকটে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য সেবাদানকারী সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে গাজা ও লেবাননের ফ্রন্টগুলোতে দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকা ইসরায়েলের কয়েক লাখ রিজার্ভ ও নিয়মিত সেনার মধ্যে এই সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় বর্তমানে সেনাদের মধ্যে পিটিএসডির হার প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সাল নাগাদ এই হার ১৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বর্তমানে যুদ্ধাহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন প্রায় ২২ হাজার সেনার মধ্যে ৬০ শতাংশই মানসিক ট্রমার শিকার। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মাসের মধ্যে প্রায় ২৭৯ জন সেনা আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে।

ইসরায়েলের একটি সংসদীয় কমিটির তথ্যমতে, গত এক বছরে দেশটিতে যত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে তার ৭৮ শতাংশই ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের ময়দানে মৃত্যুভয় এবং অনিচ্ছাসত্ত্বেও সাধারণ মানুষ ও শিশুদের ওপর হামলার ফলে সৃষ্ট ‘নৈতিক ক্ষত’ সেনাদের মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে গাজার পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন। সেখানে দীর্ঘস্থায়ী হামলা ও মৌলিক চাহিদার অভাবে ২০ লাখ মানুষ চরম বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

ফিলিস্তিনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজার শিশুদের মধ্যে রাতের বেলা আতঙ্কিত হওয়া এবং মনোসংযোগ হারানোর মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। ফলে এর প্রভাব পড়ছে প্রতিটি পরিবারে। একদিকে স্বজন হারানো এবং অন্যদিকে নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব গাজাবাসীকে এক দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ট্রমার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এদিকে লেবানন ও সিরিয়া সীমান্তে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় ইসরায়েলি সেনাদের ছুটির সুযোগ কমেছে, যা তাদের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

ইসরায়েলি মনোবিজ্ঞানীদের মতে, দেশটির মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অনেক সেনা সময়মতো সহায়তা পাচ্ছেন না, ফলে বাড়ছে চরম পদক্ষেপ নেওয়ার ঝুঁকি। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই মানসিক স্বাস্থ্য সংকট উভয় পক্ষেই এক নতুন মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিচ্ছে।

সূত্র: আরব উইকলি

ইউডি/কেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading