বাসর রাতে ‘কনে বদল’, কারাগারে বর

বাসর রাতে ‘কনে বদল’, কারাগারে বর

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ০১:২০

বিয়ের জন্যে পাত্রী দেখেছিলেন যুবক রায়হান কবির। পারিবারিকভাবে পছন্দের পাত্রীর সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা। তবে, বাসর রাতে বউ দেখে অবাক হয়ে যান তিনি। রায়হান কবিরের অভিযোগ, বিয়ের আগে পছন্দ করা মেয়ের বদলে বাসর রাত হয়েছে অন্য মেয়ের সঙ্গে।

অভিযুক্ত বদলে যাওয়া কনে ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেয়ে। তার সঙ্গে বিয়ে হয় একই জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের। দীর্ঘ সময় ধরে মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বর রায়হান কবিরকে।

বিষয়টি মীমাংসার জন্য বার বার দুই পক্ষ আলোচনায় বসলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে ২৭ আগস্ট ছেলেপক্ষের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও আদালতে মামলা দায়ের করেন জিয়ারুল হক। এতে রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করা হয়। পরে ২ সেপ্টেম্বর মেয়েপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন রায়হান কবির। এতে কনের বাবা জিয়ারুল হক ও ঘটক মোতালেবকে আসামি করা হয়।

রায়হান কবিরের মামা বাদল সাংবাদিকদের বলেছেন, মোতালেব নামের এক ঘটকের মাধ্যমে রায়হান কবিরের বিয়ের জন্য আমরা পাত্রী খুঁজছিলাম। জুলাই মাসের শেষের দিকে রাণীশংকৈলের শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে পাত্রী দেখান ঘটক মোতালেব। পাত্রী দেখে পাত্র ও উপস্থিত আমাদের সকলের পছন্দ হওয়ার বিষয়টি আমরা ঘটককে জানাই। পরবর্তী সময়ে মেয়েপক্ষের লোক বাসায় এসে আমাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করতে সম্মতি জানায়। সেইসঙ্গে নতুন করে মেয়ে দেখতে না গিয়ে সরাসরি বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। রায়হান কবিরের দুলাভাই মিজান মালয়েশিয়া প্রবাসী। দ্রুতই তিনি মালয়েশিয়া চলে যাবেন। আমরাও দ্রুত বিয়ের কাজ সম্পন্ন করতে চেয়েছিলাম। তাই, আমরা নতুন করে আরে মেয়ে দেখার পর্বে না গিয়ে মেয়েপক্ষের প্রস্তাবে সম্মত হই। ১ আগস্ট রাত ১১টায় দুটি মাইক্রোবাসে করে আমরা মেয়ের বাসায় পৌঁছাই। বিয়ের কাজ শেষ করে ভোর ৪টায় বাসায় ফিরে আসি। তবে, বাসর রাতে রায়হান কবির বুঝতে পারে, বিয়ে করা বউটি অন্য কেউ। যে মেয়েকে ঘটক দেখিয়েছিলেন, সে মেয়ে বদল করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত মেকআপ থাকায় বিয়ের রাতে আমরা কনে পরিবর্তনের বিষয়টি বুঝতে পারিনি। তবে, বাসর রাতে মেয়ে মুখ ধোয়ার পরে রায়হান কবির মেয়েকে দেখে বিষয়টি বুঝতে পারে। তাই, ২ আগস্ট আমরা মেয়েকে তার বাবার বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে প্রতারণার কারণ জানতে চাই। আমার নিশ্চিত, ঘটক ও মেয়ের বাবা পরিকল্পিতভাবে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে।

তবে, মেয়ের বাবা জিয়ারুল বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আমার কোনো ছেলে সন্তান নেই। আমার তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। জেমিন আক্তার দ্বিতীয় সন্তান। সে রাণীশংকৈল মহিলা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ছেলেপক্ষ বাসায় এসে আমার মেয়েকে দেখে গেছে। ৭০ জন বরযাত্রী এসেছিল বিয়ের অনুষ্ঠানে। এমন অবস্থায় বিয়ের রাতে কনে বদলের বিষয়টি বুঝতে না পারা অস্বাভাবিক। তারা বিয়ের আগে কোনো প্রকার যৌতুকের কথা বলেনি। তবে, বিয়ের পরের দিনই তারা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। আমি জমি বিক্রি করে দিতে রাজিও হই। তবে, এক্ষেত্রে ৪ থেকে ৫ মাস সময় ছেয়েছিলাম। তারা সময় দিতে রাজি হয়নি। তাই, আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছে।

ঘটক মোতালেব বলেন, আমি অন্য মেয়ে দেখাইনি। মেয়ে দেখানো হয়েছিল তার বাবার বাসাতেই। পরে তারা নিজেরা মিলে হুট করে বিয়ের প্রক্রিয়া শেষ করেছে। আমি আর পরের কোনো ঘটনা সম্পর্কে অবগত নই।

এই বিষয়ে ঠাকুরগাঁও বার কাউন্সিলের সভাপতি ও ছেলেপক্ষের উকিল জয়নাল আবেদিন বলেছেন, ছেলে অভিযোগ করেছে, মেয়েপক্ষ ও ঘটক মিলে কনে বদলের মাধ্যমে তার সাথে প্রতারণা করেছে। এক্ষেত্রে প্রথমদিকে মীমাংসার শর্তে রায়হান কবিরের জামিন হয়েছিল। তবে, কোনো প্রকার মীমাংসা হয়নি। বিষয়টি বিচারাধীন আছে। আশা করছি, সত্যের জয় হবে।

এ ঘটনায় জেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে সত্য জানার অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading