সাংবাদিকতায় ‘ভুল স্বীকারের সংস্কৃতি’ গড়ে তুলতে হবে: প্রেস সচিব

সাংবাদিকতায় ‘ভুল স্বীকারের সংস্কৃতি’ গড়ে তুলতে হবে: প্রেস সচিব

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৫:৩০

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকতার একটি মৌলিক নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—যা সহজ, কিন্তু গভীরভাবে নৈতিক।তিনি বলেছেন, বার্তা সংস্থা এএফপি-তে কাজ শুরু করার সময় সাংবাদিকতা সম্পর্কে প্রথম যে শিক্ষা তিনি পেয়েছিলেন, তা হলো: ভুল হলে নিঃশর্তভাবে তা স্বীকার করতে হবে।

শফিকুল আলমের মতে, ভুলকে ব্যাখ্যা দিয়ে ঢাকার প্রয়োজন নেই। অজুহাত, যুক্তির জট কিংবা শব্দের কৌশলে সত্যকে আড়াল করার কোনো অবকাশও নেই।

কেবল স্পষ্টভাবে জানাতে হবে—এখানে একটি ভুল হয়েছিল, এবং সেটি সংশোধন করা হয়েছে। কারণ পাঠক জানে, মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে। কিন্তু তারা দেখতে চায় সততা, দায়বদ্ধতা এবং নৈতিক দৃঢ়তা।

প্রেস সচিব আক্ষেপ করে বলেন, দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এই সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরেই অনুপস্থিত।তিনি বলেন, ‘ভুল বা অসত্য তথ্য ধরিয়ে দিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা উপেক্ষা করা হয়।

কোনো পাঠক, গবেষক বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ যদি সংশোধনের দাবি তোলে, তখন অনেক সম্পাদক আত্মসমালোচনার বদলে আত্মপক্ষসমর্থনের পথ বেছে নেন। শুরু হয় ঘুরপথের ভাষা, অস্পষ্ট ব্যাখ্যা, কিংবা দায় এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল।

আর যখন সংশোধনের দাবি উপেক্ষা করা আর সম্ভব হয় না, তখন আরও ভয়ংকর একটি প্রবণতা দেখা যায়— সংবাদটি নীরবে সরিয়ে ফেলা হয়।

কিন্তু পাঠকদের জানানো হয় না কেন সেটি সরানো হলো। কোথাও লেখা থাকে না যে এটি ভুল ছিল, কিংবা তথ্যগত অসত্যের কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ফলে পাঠকের সামনে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা সংশোধনের কোনো উদ্যোগই নেওয়া হয় না।এটি শুধু একটি পেশাগত দুর্বলতা নয়। এটি পাঠকের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসভঙ্গ।

কারণ সাংবাদিকতার মূল শক্তি কোনো ‘ব্রেকিং নিউজ’ নয়, কোনো শিরোনামের চমক নয়— সাংবাদিকতার আসল শক্তি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা।

আর সেই বিশ্বাস গড়ে ওঠে না ভুল ঢেকে রেখে। গড়ে ওঠে ভুল স্বীকার করার সাহসে।ভুল স্বীকার করা কোনো লজ্জা নয়; বরং তা পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ প্রকাশ।

যে সংবাদমাধ্যম নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে, পাঠক জানে—সেই মাধ্যম সত্যের পক্ষেই দাঁড়ায়। আর যে মাধ্যম ভুল আড়াল করে, সে শেষ পর্যন্ত নিজের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষয় করে।

বাংলাদেশি সাংবাদিকতায় যদি সত্যিই সংস্কার চাই, তবে প্রথম সংস্কারটি শুরু হোক এখান থেকেই— ভুল স্বীকারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে।’

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading