কোকোর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন

কোকোর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৪ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১৭:১০

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যু বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত করেছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বনানীতে কোকোর কবর জিয়ারত করে তার জীবনী তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা নাজিম উদ্দীন আলম।

মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘর আলোকিত ১৯৭০ সালে ১২ আগস্ট আরাফাত রহমান কোকো জন্মগ্রহণ করেন। এর কিছুদিন পরেই শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। বাবা তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে বিদ্রোহ করে মহান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকার পর ১৬ মে ১৯৭১ সালে নৌপথে বেগম খালেদা জিয়া ও ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। বড় বোন খুরশীদ জাহানের বাসায় ১৭ জুন পর্যন্ত থাকেন সপরিবারে। ২ জুলাই ১৯৭১ সালে সিদ্ধেশ্বরীতে এস আব্দুল্লাহর বাসা থেকে পাকিস্তানি সেনারা দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোসহ মা বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বন্দি ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর ৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে মা-ভাইসহ আরাফাত রহমান কোকোও মুক্তি পান।

কোকো ক্রীড়া সংসদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় সিলেট-৬ আসনে মনোনীত পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট ইমরান আহমেদ চৌধুরীর পক্ষে তার কবর জিয়ারত, কোরআন তেলাওয়াত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। এছাড়াও আরাফাত রহমান কোকো কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সংসদ, জাতীয় জনতা ফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনসহ অন্যান্য সামাজিক সংগঠনগুলো শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদ কেন্দ্রীয় সভাপতি, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নাজিম উদ্দীন আলম। এছাড়াও বিএনপি নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা শাহজালাল মিয়া সম্রাট, জনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বাংলাপোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান ও মায়ের ডাক সংগঠনের অন্যতম সমন্বয়ক মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রমুখসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এরপর নাজিম উদ্দীন আলম বলেন, কোকোর মৃত্যুতে শহীদ জিয়া পরিবার ও দলের জন্য আজও এক গভীর শোকের স্মৃতি। তার মাগফিরাত কামনায় দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন হচ্ছে। কোকো কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সংসদ এর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন যারা শ্রদ্ধা নিবেদন করছে সকলকেই ধন্যবাদ জানেই।

নাজিম উদ্দীন আলম আরও বলেন, বিগত ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি দেশের গণআন্দোলনের এক শ্বাসরুদ্ধকার সময়ে “মা” দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুলশানে নিজ কার্যালয়ে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ পুলিশি অবরুদ্ধ থাকাবস্থায়, প্রবাসী জীবনে সপরিবারে মালয়েশিয়ায় আকস্মিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আরাফাত রহমান কোকো। তার এই অকাল মৃত্যুতে দেশবাসী শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছিল। অবরুদ্ধ ‘মা’ বেগম খালেদা জিয়া প্রিয় পুত্রের মরদেহ ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন ওই সময়। তখনকারদিনে স্বৈরাচার আওয়ামী বাকশালী সরকারের পক্ষে তার লাশ দেখা ও সমবেদনা নিয়ে হয়েছিল এক নিকৃষ্টতর ঘৃণ্য রাজনীতির কূটকৌশল। মৃত্যুকালে কোকোর বয়স হয়েছিল ৪৫ বছর।

নাজিম উদ্দীন আলম বলেন, রাজনৈতিক পরিবারে তার জন্ম হলেও তিনি রাজনীতিক হিসেবে নয়, একজন ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ব্যবসা, ক্রীড়া ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেই নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রেখেছিলেন। সাধারণ মানুষের মত তিনি জীবনযাপন করতেন কোকো।

তিনি বলেন, কোকো মাঝেমধ্যেই খেলনা আর চকলেট নিয়ে পথশিশুদের কাছে ‘সারপ্রাইজ’ হিসেবে হাজির হতেন। তাদের সাথে ক্রিকেট খেলতেন। মালয়েশিয়াতে অবস্থানকালেও তিনি খুবই সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন। ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। নিজেই প্রতিদিন দুই মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন এবং নিয়ে আসতেন। বিনয়ী ও প্রচারবিমুখ কোকোর চরম শত্রুরাও তার ব্যক্তি চরিত্রের কোনো ত্রুটির কথা বলতে পারবে না।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading