মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৯তম জন্মদিন আজ
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৪:২৫
বিএনপির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ ৭৯ বছরে পা দিলেন। জীবনের আরেকটি বছর পেরিয়ে জন্মদিনের এই দিনে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তিনি।
জন্মদিন উপলক্ষে রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। রাত ১২টা ১ মিনিটে স্ত্রী রাহাত আরা বেগম ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের উপস্থিতিতে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন বিএনপির মহাসচিব।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭৯ বছরে পা দেয়া প্রবীণ এই রাজনীতিবিদকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিভিন্ন স্তরের জনগণ।
নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে দেশের মানুষের মুক্তি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে দেশে একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিএনপি সরকারের আমলে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে।
পারিবারিক জীবনে তার দুই মেয়ে। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে বাবার পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগে যুক্ত রয়েছেন।
ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে রাজধানীর একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত।
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি কর্মজীবনেও মির্জা ফখরুল দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়ব্যয় পরীক্ষণ অধিদফতরে নিরীক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৮২ সালে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর পুনরায় শিক্ষকতা পেশায় ফিরে গিয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন।
দীর্ঘদিন শিক্ষকতা শেষে পরে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন।
প্রবীণ এই রাজনীতিকের জন্মদিনে দেশজুড়ে তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
ইউডি/কেএস

