বিশ্বকাপে ‘ফিক্সিং’ রুখতে ফিফা-জাতিসংঘের কর্মশালা

বিশ্বকাপে ‘ফিক্সিং’ রুখতে ফিফা-জাতিসংঘের কর্মশালা

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ২২:৫৫

ফুটবলে মাঠের লড়াইকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে এবার আরও কঠোর অবস্থানে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এবার নতুন কার্যক্রম হাতে নিলো তারা। ম্যাচ ফিক্সিং রুখতে জাতিসংঘের সংস্থা- ইউএনওডিসি এর সঙ্গে যৌথ কার্যক্রম শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যার প্রথম কর্মশালাটি হয়ে গেলো আমেরিকার মায়ামিতে। যাতে অংশ নেন ৮৫টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি। সবার আশা, একটি সুন্দর এবং দুর্নীতিমুক্ত বিশ্বকাপ দেখবেন সমর্থকরা।

মাঠের লড়াইয়ে রোমাঞ্চ ছাপিয়ে ফুটবলের সবচেয়ে বড় শত্রু এখন ‘ম্যাচ ফিক্সিং’ বা ‘ম্যাচ ম্যানিপুলেশন’। বিশ্ব ফুটবলের এই ক্ষত সারাতে আমেরিকার মায়ামিতে একজোট হয়েছে ফিফা এবং জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম বিষয়ক সংস্থা—ইউএনওডিসি। ৮৫টিরও বেশি সদস্য দেশের ইনটেগ্রিটি অফিসারদের নিয়ে আয়োজিত হলো ‘ফিফা গ্লোবাল ইনটেগ্রিটি প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ।

মূলত বিশ্বকাপে ম্যাচ ম্যানুপুলেশনের ঘটনা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সদস্য দেশগুলোকে আরও বেশি সচেতন করে তোলাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি, মেক্সিকো ড্রাগসের স্বর্গ্রাজ্য হওয়ায়, এ বিষয়টা থেকেও সমর্থক এবং ফুটবলকে মুক্ত রাখার জন্য নতুন কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে ফিফার সামনে।

এ বিষয়ে ফিফার চিফ লিগ্যাল এন্ড কমপ্লায়েন্স অফিসার এমিলিও গার্সিয়া সিলভেরো বলেন, ‘ম্যাচ ম্যানিপুলেশন আমাদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়। ২০২৬ সালেও এটি বিশ্বজুড়ে, এমনকি জাতীয় পর্যায়েও একটি বড় সমস্যা। আর একারণেই আমরা এখানে সমবেত হয়েছি—যাতে আমাদের কর্মকর্তাদের সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় টুলস দিয়ে দক্ষ করে তোলা যায়। আমরা আশা করব, সবাই তাদের দায়িত্ব পালন করবেন এবং সমর্থকদের জন্য একটা পরিচ্ছন্ন বিশ্বকাপ উপহার দেবেন।’

২০২৫ সালের মার্চ মাসে চালু হওয়া এই প্রোগ্রামটি মূলত তিনটি স্তরে বিভক্ত—স্ট্যান্ডার্ড, ইন্টারমিডিয়েট এবং অ্যাডভান্সড। মায়ামির এই সেশনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে একটি শক্তিশালী ইনটেগ্রিটি কৌশল তৈরি, আইনি কাঠামো এবং হুইসেলব্লোয়ারদের ব্যবহারের ওপর। লক্ষ্য একটাই— ফুটবলকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে একটি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। যাদের কাজটাই হবে, দুনিয়া জোড়া ক্রীড়ার দুর্নীতিকে রুখে দেওয়া।

ইউএনওডিসি’র ক্রীড়া দুর্নীতি বিশেষজ্ঞ রোনান ও‘লায়ার বলেন, ‘ফিফা এবং জাতিসংঘ একসাথে কাজ করার ফলে একটি বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। এটি জাতীয় বিচার বিভাগ এবং ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসে, যাতে তারা সমন্বিতভাবে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো হুমকি মোকাবিলা করতে পারে। আমরা আশা করছি, যে উদ্দেশ্যে এই কার্যক্রমের শুরু হলো, তা সফল হবে।’

মায়ামির এই সফল সেশনের পর পরবর্তী গন্তব্য প্যারিস এবং জুরিখ। মাঠের খেলাকে স্বচ্ছ রাখতে এবং দর্শক-বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে ফিফার এই লড়াই চলবে দেশ থেকে দেশান্তরে।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading