ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করতে দেবো না: জামায়াত আমির

ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করতে দেবো না: জামায়াত আমির

উত্তরদক্ষিণ। শ , ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৪:৩০

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত করতে দেবো না। ধর্মের ভিত্তিতে বাড়াবাড়ি ইসলাম পছন্দ করে না। কোনও ধার্মিক মানুষ অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতি করতে পারে না। তার সাক্ষী বাংলাদেশের জনগণ। এ দেশে চারটি ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ আর খ্রিষ্টান।’

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জে এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। হবিগঞ্জ শহরের সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখলিছুর রহমান।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেখে আসছি, এ দেশে বংশানুক্রমে রাজার ছেলে রাজা হয়। আমরা সেই ধারা পাল্টে দিতে চাই। একজন সাধারণ শ্রমিকের সন্তান, সে যদি মেধাবী হয়, তাহলে তার মেধার বিকাশ ঘটিয়ে আমরা চাই, সে হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই রাজনীতির ধারা আমরা চালু করতে চাই। এখন তারা জনগণের কাছে আসে ভোটের জন্য। এখন একেকজন দরবেশ-আউলিয়া হয়ে আসেন। তারা আসেন বসন্তের কোকিল হয়ে। বসন্তের সুবাতাস উপভোগ করতে। ইলেকশনের সময় উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে পদ্মা-মেঘনা আর কুশিয়ারা নদী ভাসিয়ে দেন। যখন ইলেকশন শেষ হয়ে যায়, তখন আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একে একে ৫৪টি বছর পার করেছে। একটি জাতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যথেষ্ট সময় ছিল। ভিয়েতনাম আমাদের বহু পরে স্বাধীনতা পেয়েছে। ভিয়েতনাম এখন এ অঞ্চলের উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু বাংলাদেশের কপালে কোনও ভালো উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। এখনও বাংলাদেশে সন্ত্রাস হয়। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নেই।

চাঁদাবাজদের ভয়ে মানুষ অস্থির। দুর্নীতি আমাদের সমাজকে আগাগোড়া ছেয়ে ফেলেছে। এই বাংলাদেশ সবাইকে চেয়েছে।’শফিকুর রহমান বলেন, ‘যে দেশের মানুষের পরিশ্রমের হাতে ছোঁয়ায় ভিন্ন দেশের অর্থনীতির চাকা পালটে যায়।

সে দেশের মানুষের ভাগ্যে পাল্টায় না কেন। না পাল্টানোর কারণ হলো অসৎ নেতৃত্ব।’তিনি বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করে নির্বাচনের মাঠে এসেছি। আমরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজের হাত বন্ধ করে দেবো। ব্যবসায়ীদের রাতের ঘুম হারাম হবে না।

ফুটপাতের হকারকে চোখের পানি ফেলতে হবে না। চাঁদাবাজরা সাহস পাবে না দুর্নীতি করার।’

জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যুবায়ের, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় আমির ও হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী আবদুল বাসিত, একই দলের মহাসচিব ও হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী আহমদ আবদুল কাদির, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading