অন্তর্ভুক্তি হওয়ার মাইন্ডসেট আ. লীগের মধ্যে নাই: আসিফ নজরুল
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৭:৪০
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আগত কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে নির্বাচন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা যেতো কিনা সে প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, আপনি জোর করে অন্তর্ভুক্তি করাতে পারেন না। অন্তর্ভুক্তি করার মতো কোনও মাইন্ডসেট আমরা তাদের (আওয়ামী লীগ) দলের কারও মধ্যেই শুনি নাই, কোনও কিছুর মধ্যে শুনি নাই।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, জুলাইয়ে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগের যারা সিনিয়র লিডার আছেন তাদের বিচার হচ্ছে, তাদের সবচেয়ে প্রধান যে নেত্রী আছেন তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে।
তিনি বিদেশে বসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের, আমাদের সরকারে যারা আছেন তাদের হত্যার নির্দেশ দিচ্ছেন। তাদের জ্বালিয়ে দেবেন, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
তাদের (আওয়ামী লীগ) কর্মীদের সব রকমভাবে দেশের মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বিভিন্ন রকম উত্তেজনাকর বক্তব্য দিচ্ছেন।
আওয়ামী লীগের একজন লিডারকেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে তাদের দল ও সরকারের যে ভূমিকা এটা সম্পর্কে অনুশোচনামূলক বা নিন্দাসূচক বক্তব্য আমরা দিতে দেখি নাই।
আপনি যখন অন্তর্ভুক্তি শুরু করতে চাইবেন অন্যপক্ষের অ্যাটিচিউডটা আপনাকে বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মনে হয় নাই, আমাদের যে সংস্কার, আমাদের যে কর্ম প্রক্রিয়া চলছে, এটাতে তাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ইচ্ছা বা মাইন্ডসেট আছে।
বরং তারা যে ফ্যাসিস্ট রেজিম কায়েম করেছিল, বাংলাদেশে সেটার ধারাবাহিকতাই বজায় রাখতে চায়। সেটার পক্ষেই তারা কথা বলে, তারা এই গণঅভ্যুত্থানেরকারীদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাদের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি কীভাবে সম্ভব, আপনি জোর করে একজনকে অন্তর্ভুক্তি করাতে পারবেন না।
আসিফ নজরুল বলেন, আমি তাদের (কমনওয়েলথ প্রতিনিধি) বলেছি, আমাদের বিশেষ করে নারী ভোটারদের ভয় পাওয়ার মতো কোনও বিশেষ পরিস্থিতি বাংলাদেশে সৃষ্টি হয় নাই।
আমি তাদের বলেছি, অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাছে কারও কারও কথা শুনে মনে হতে পারে, এ রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমার অভিমত, ক্ষুদ্র ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাংলাদেশে সবসময় ঘটে।
এটার কারণে নারী ভোটারের সংখ্যা কমবে বলে আমি মনে করি না। নারী ভোটারের সংখ্যা কমতে পারে এ রকম কিছু ঘটে নাই। আমি বরং তাদের বলেছি, আমি মনে করি এবার নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে আরও বেশি বাড়বে।
আমি তাদের বলেছি, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নারী সমাজের একটা বড় অংশ যারা হিজাব, বোরকা পরতো তারা মার্জিনাল শিকার হতো।
তারা বিভিন্ন ধরনের হয়রানি-নিপীড়নের শিকার হতো, বরং তাদের একটা বিপুল অংশ এখন আরও আগ্রহের সঙ্গে ভোট দিতে আসবে।
সব মিলিয়ে আমি তাদের সঙ্গে একমত হয়েছি, বাংলাদেশের পলিটিক্যাল স্পেসে পাবলিক লাইফে নারীদের আরও বেশি অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং আমি বলেছি, আমি আশাবাদী আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয় সচেতন থাকবে।
ইউডি/এআর

