গাবতলীতে বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ

গাবতলীতে বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের ক্ষোভ

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১২:৩০

রাত পোহালেই জাতীয় নির্বাচন। ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় ফিরছেন অসংখ্য মানুষ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টানা ছুটি। ফলে বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে বাড়ি ফেরার এই স্বস্তির মাঝে বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। টার্মিনালে আসা অধিকাংশ যাত্রীরই অভিযোগ– পরিবহনগুলো নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে গাবতলী বাস টার্মিনাল দেখা যায়, ভোরের আলো ফুটতেই যাত্রীরা ভিড় জমাতে শুরু করেছেন। পরিবহন শ্রমিকদের হাঁকডাকে মুখর চারপাশ। টার্মিনালে বাসের সংখ্যাও ছিল পর্যাপ্ত।

যশোর-খুলনাগামী ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার জানান, গত রাত পর্যন্ত যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ ছিল। সেই তুলনায় আজ ভিড় কিছুটা কম। তবে যাত্রীদের আসা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের সামাল দিতে পর্যাপ্ত বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেল মাগুরা-ঝিনাইদহগামী উত্তরা পরিবহনের কাউন্টারে। সেখানকার কর্মী বলেন, ‘অধিকাংশ যাত্রী গতকালই চলে গেছেন। আজকেও অনেকে যাচ্ছেন। আমাদের বাসের কোনো সংকট নেই।’

তবে বাসের সংকট না থাকলেও বাড়তি ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। রয়্যাল পরিবহনে মাছকান্দি যাওয়ার জন্য টিকিট কাটছিলেন মো. আশিক। তিনি বলেন, ‘ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি যাচ্ছি। আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া রাখা হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ে ৪০০ টাকা থাকে। কেন বেশি রাখা হচ্ছে– জানতে চাইলেও কোনো সদুত্তর পাইনি।’

কুষ্টিয়াগামী জামান পরিবহনের যাত্রী সেলিম মিয়াও শোনালেন একই অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, ‘অন্য সময় ৪৫০ টাকায় কুষ্টিয়া যেতাম। আজ নিল ৫০০ টাকা। কাউন্টারে সবার কাছ থেকেই এমন বাড়তি ভাড়া রাখা হচ্ছে।’

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের যুক্তি কিছুটা ভিন্ন। তাদের দাবি, বাসগুলো যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছাড়লেও ফেরার সময় একদম খালি আসছে। রয়াল পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা মোর্শেদ বলেন, ‘গাবতলী থেকে বাস ভরে গেলেও ফেরার পথে কোনো যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এই তেলের খরচ তুলতেই ভাড়া কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে।’

জামান পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘সারা দিনে ৩ থেকে ৪টি বাস ছাড়ব। ঢাকা ছাড়ার সময় বাস বোঝাই থাকলেও ফেরার সময় প্রতিটা বাসই খালি আসবে। কিন্তু আমাদের তেল খরচ, কর্মীদের বেতন আর টোলের খরচ তো কমছে না। তাই খরচ মেটাতেই ভাড়া সামান্য বাড়ানো হয়েছে।’

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading