একুশের চেতনাই ছিল আমাদের মুক্তিসংগ্রামের অফুরন্ত প্রেরণা: রাষ্ট্রপতি

একুশের চেতনাই ছিল আমাদের মুক্তিসংগ্রামের অফুরন্ত প্রেরণা: রাষ্ট্রপতি

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, আপডেট ১৭:৩০

শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই সাথে তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবসটি উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

স্মৃতিবিজড়িত এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মাতৃভাষা বাংলার অধিকার আদায়ে জীবন উৎসর্গকারী ভাষা শহিদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা শহিদদের।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগণ ও জাতিগোষ্ঠীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

তিনি বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া পাকিস্তান রাষ্ট্রের দুই অংশের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে।

নিজ মাতৃভাষার অধিকার হরণের এই অন্যায় সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রসমাজসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের জনগণ। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আদায় করে নেয় মাতৃভাষার অধিকার। আমাদের নিজস্ব জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটে।

মূলত ভাষা আন্দোলন ছিল নিজস্ব জাতিসত্তা, স্বকীয়তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আন্দোলন। আমাদের স্বাধিকার, মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অমর একুশের চেতনাই যুগিয়েছে অফুরন্ত প্রেরণা ও অসীম সাহস।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ১৯৯৯ সালে শহিদ দিবস আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। জাতি হিসেবে এটি আমাদের অন্যতম গৌরবময় অর্জন।

বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অমর একুশের চেতনা আজ অনুপ্রেরণার অবিরাম উৎস।তিনি আরও বলেন, ভাষা একটি জাতির অস্তিত্ব, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রধান ধারক ও বাহক।

অনেক ত্যাগ ও শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার যথাযথ চর্চা ও মান সংরক্ষণে তাই আমাদের আরো যত্নবান হতে হবে। উন্নত বিশ্বের সাথে সমানতালে এগিয়ে যেতে বাংলার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন ভাষার ওপর প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

একটি সমৃদ্ধ জাতি ও টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন ইতিবাচক অবদান রাখবে এই প্রত্যাশা করি।

শেষে, মহান একুশের চেতনা ধারণ করে বিশ্বের সকল ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে তিনি তার বাণী শেষ করেন।

ইউডি/এআর

ashiqurrahman7863

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading