ইরানে স্থল সেনা মোতায়েনের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প?

ইরানে স্থল সেনা মোতায়েনের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প?

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ০১:১৫

ইরানে প্রয়োজনে আমেরিকার স্থলবাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক অভিযানের বড় আঘাত এখনও বাকি এবং খুব শিগগিরই তা আসতে পারে।

সোমবার আমেরিকার সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে আমেরিকার স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে তার কোনও জড়তা নেই। তিনি বলেন, অন্য সব প্রেসিডেন্টদের মতো তিনি আগেভাগে ঘোষণা দিচ্ছেন না যে ‘স্থলভাগে কোনও সৈন্য মোতায়েন করা হবে না’। তার ভাষায়, ‘আমি তা বলছি না।’

তিনি আরও বলেন, আমি বলছি, সম্ভবত তার প্রয়োজন নেই; অথবা যদি তা প্রয়োজন হয়, তাহলে পাঠানো হবে।

ইরানে হামলার বিষয়ে জনমত জরিপে উঠে আসা অসন্তোষ নিয়েও ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইপসোস-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ইরানে হামলার বিপক্ষে ৪৩ শতাংশ আমেরিকান মত দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি এ নিয়ে চিন্তিত নন।

তিনি বলেন, জরিপের ফল খারাপ হোক বা না হোক, আমার মতে তা সম্ভবত ঠিকই আছে। তবে এটি জরিপের কোনও বিষয় নয়। আমাকে সঠিক কাজই করতে হবে।

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এমন একটি দেশ যা ‘উন্মাদ কিছু মানুষ’ দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া যায় না। ইরানে আমেরিকার সামরিক অভিযানে মানুষ অত্যন্ত মুগ্ধ বলেও তিনি নিজের বিশ্বাসের কথা জানান। তার মতে, এটি একটি ‘নীরব বিষয়’ এবং প্রকৃত বা নীরব জনমত জরিপ করলে নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পাওয়া যাবে।

এদিকে আমেরিকার সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের একটি ‘বিশাল ঢেউ’ এখনও বাকি। বর্তমান অভিযানকে তিনি আরও বড় আকারের আক্রমণের কেবল শুরু বলে উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, আমরা এখনও তাদের ওপর কঠোর আঘাত শুরুই করিনি। বড় সেই ঢেউ এখনও আসেনি। বড় আঘাত খুব শিগগিরই আসছে।
সংঘাতের স্থায়িত্ব নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি চান না এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলুক। তিনি আগে ভেবেছিলেন এটি চার সপ্তাহ স্থায়ী হবে এবং অভিযান বর্তমানে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন বলে মন্তব্য করেন।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জানান, এই যুদ্ধে তার জন্য সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের হামলা। প্রাথমিক হামলায় ইরানের অন্তত ৪৯ জন নেতা নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading