ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালেন কিম

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালালেন কিম

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৩:১০

ইরান যুদ্ধের মধ্যেই ‘কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’ পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন স্বয়ং উপস্থিত থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর্যবেক্ষণ করেন। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

ইরানে ইসরাইল ও আমেরিকার সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে গত বুধবার (৪ মার্চ) দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ন্যাম্পো শিপইয়ার্ডে চোয়ে হিয়ন যুদ্ধজাহাজ থেকে সমুদ্র-থেকে-ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।

ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরই যুদ্ধজাহাজটির আনুষ্ঠানিক কমিশনিং হয়। কিম এই পরীক্ষা নতুন যুদ্ধজাহাজের ক্ষমতার ‘মূল’ অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এটাকে উত্তর কোরিয়ার ‘নৌ প্রতিরক্ষার নতুন প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন।

কিম জং উন আরও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার নৌবাহিনী পারমাণবিক অস্ত্র গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রগতি করছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নৌবাহিনীর জলরেখার উপরে ও নিচে থেকে আক্রমণের সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কাজ সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখাচ্ছে।’

এদিকে উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া ‘কৌশলগত’ অস্ত্রের উল্লেখ করে বোঝাতে চায় যে এগুলোর পারমাণবিক সক্ষমতা থাকতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএর তথ্য মতে, গত মঙ্গলবার ও বুধবার কিম ন্যাম্পো শিপইয়ার্ডে দুইদিনের সফরে চোয়ে হিয়ন যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শন করেন। এটি ৫ হাজার টনের নতুন ‘চোয়ে হিয়ন-ক্লাস’ ডেস্ট্রয়ার সিরিজের প্রথম জাহাজ। সিরিজের অন্য জাহাজগুলো বর্তমানে নির্মাণাধীন।

পরমাণু ইস্যুতে পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল ও আমেরিকা। চীন ও রাশিয়াসহ বিশ্বের বহু দেশ এই আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে। প্রতিক্রিয়া জানায় উত্তর কোরিয়াও।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা ইরানের ওপর ‘অবৈধ আগ্রাসন’ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।

মুখপাত্রের মন্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন আমেরিকার সম্পৃক্ততা (ইরানে হামলায়) ‘প্রত্যাশার সীমার মধ্যে’ ছিল। এটি আমেরিকার ‘আধিপত্যবাদী এবং গ্যাংস্টার-সদৃশ’ আচরণের একটি অনিবার্য ফলাফল। আমেরিকা ও ইসরাইলের ‘আগ্রাসী যুদ্ধ’ কোনো পরিস্থিতিতেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading