তেহরানের নিশানায় এবার কুর্দিরা, উত্তর ইরাকে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ

তেহরানের নিশানায় এবার কুর্দিরা, উত্তর ইরাকে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৪:১০

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধের আজ ষষ্ঠ দিন। আঞ্চলিক এই যুদ্ধের মাঝেই প্রতিবেশী ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ইরান। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ১৯তম দফায় মিসাইল ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে তেহরান।

বৃহস্পতিবার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ জানিয়েছে, তারা ‘ইরানবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনী’ লক্ষ্য করে এই অপারেশন শুরু করেছে। উত্তর ইরাকের সুলাইমানিয়াহ প্রদেশে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, আরবাত, জারকুইজ ও সুরদাশ এলাকায় অন্তত চারটি বিশাল বিস্ফোরণ ঘটেছে। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র কুর্দি গোষ্ঠী ‘কোমালা’র (Kurdistan Toilers Association) সদর দপ্তর। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, ইরাক সীমান্তে অবস্থানরত কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তারা পশ্চিম ইরান থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা এবং ওয়াশিংটনের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার ব্যাপারে শলাপরামর্শ করছিল। এই হুমকি নস্যাৎ করতেই ইরান আগাম হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েল ও আমেরিকার ওপর ইরানের পাল্টা আঘাত

কুর্দিদের ওপর হামলার পাশাপাশি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থে নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ জানিয়েছে, পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলে দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সৌদি আরব অন্তত তিনটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে। অন্যদিকে, কাতারের দোহায় মার্কিন দূতাবাসের সংলগ্ন এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তেহরান ছাড়ছে আতঙ্কিত মানুষ

শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৪৫ জন নিহত হয়েছেন। আমেরিকা ও ইসরায়েলের অব্যাহত বোমাবর্ষণে কাঁপছে তেহরান, সানান্দাজ ও বুকানের মতো শহরগুলো।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইরানের ‘কোম’ শহর থেকে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত থাকা একটি ব্যালেস্টিক মিসাইল প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করে দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য ইরানের মোবাইল মিসাইল লঞ্চারগুলো পুরোপুরি নির্মূল করা।

আল-জাজিরার সংবাদদাতা তৌহিদ আসাদি তেহরান থেকে জানান, ‘মধ্যরাত থেকে বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দে পুরো শহর কাঁপছে। তেহরানের একটি বিশাল অংশ মানুষ ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। যারা যেতে পারেনি, তারা চরম আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।’

শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫০টিরও বেশি শহর হামলার শিকার হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading