জাতীয় দলে ফেরার শেষ বড় সুযোগ নেইমারের

জাতীয় দলে ফেরার শেষ বড় সুযোগ নেইমারের

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৪:৩৬

আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আগামী ১২টা দিন নেইমার জুনিয়রের জন্য জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হতে যাচ্ছে। ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করতে এই সময়ের মধ্যেই মাঠে পারফর্ম করতে হবে তাকে।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ইউওএল’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমার আবারও জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে এসেছেন। বিশ্বকাপের আগে শেষ ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোর জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে ১৬ মার্চ, আর তার আগে কোচিং স্টাফ তাকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে দলে ফেরার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর।

সমস্যা হলো, নেইমারের ক্লাব সান্তোস খুব দ্রুতই বিদায় নিয়েছে কাম্পেওনাতো পাউলিস্তা থেকে। ফলে ধারাবাহিক ম্যাচ খেলে ফিটনেস দেখানোর সুযোগ কমে গেছে। এখন তার হাতে রয়েছে মাত্র দুটি ম্যাচ—১০ মার্চ মিরাসল এবং ১৫ মার্চ করিন্থিয়াসের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচেই তাকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাপ সামলানোর মতো প্রস্তুত।

নেইমারের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে মূলত ব্রাজিল দলে আক্রমণভাগে চোটের সমস্যার কারণে। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ফরোয়ার্ড রদ্রিগো হাঁটুর লিগামেন্টের গুরুতর ইনজুরিতে পড়েছেন। এই চোটের কারণে তিনি চলতি মৌসুমের বাকি অংশ এবং আসন্ন বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে গেছেন।

এছাড়া চেলসির তরুণ ফরোয়ার্ড এস্তেভাওয়ের পেশির চোট থেকেও পুরোপুরি সেরে ওঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। যদি তিনি সময়মতো মাঠে ফিরতে না পারেন, তাহলে আক্রমণভাগে বিকল্প কমে যাওয়ায় নেইমারকে আবার ডাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

কোচ আনচেলত্তির স্টাফরা সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ডেটা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। সেখানে নেইমারের সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে তার ফিজিক্যাল মেট্রিক্স। গত এক বছরে তিনি মাঠে খেললেও তার শারীরিক পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান নাকি জাতীয় দলের টেকনিক্যাল কমিটির প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল।

আনচেলত্তি খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নন। তার মতে, আন্তর্জাতিক ম্যাচের তীব্র চাপ সামলাতে হলে প্রতিটি খেলোয়াড়কে শতভাগ ফিট থাকতে হবে এবং কোনো ধরনের মেডিক্যাল সীমাবদ্ধতা থাকা চলবে না।

তবে নেইমারের দিক থেকে পরিস্থিতি কিছুটা আশাব্যঞ্জক। হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে নিজের ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, আগের কয়েক বছরের তুলনায় এখন তিনি অনেক বেশি শক্তিশালী ও ব্যথামুক্ত অনুভব করছেন।

২৬ ও ৩১ মার্চ যথাক্রমে ফ্রান্স এবং ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচ দুটিকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, মার্চের স্কোয়াডে আবারও বাদ পড়লে মে মাসে ঘোষিত চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দলে নেইমারের জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।

তাই এই দুটি ক্লাব ম্যাচই হতে পারে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ‘নাম্বার ১০’ এর জন্য জাতীয় দলে ফেরার শেষ বড় সুযোগ।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading