রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই এনজিও সংস্থার গুদাম

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ছাই এনজিও সংস্থার গুদাম

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৭ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১৮:৫৫

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও সংস্থা কারিতাসের ওয়াশ কার্যক্রমের গুদামে আগুনে কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর ২ টার দিকে কুতুপালং মধুরছড়াস্থ ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিষ্ঠানটির গুদামে আগুনে সূত্রপাত হয়।

কারিতাস ওয়্যারহাউসের সুপারভাইজার তারিক উদ্দিন বলেন, এটি মূলত একটি ক্যাম্পের ওয়াশ কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত ওয়্যারহাউস ছিল। এখানে একটি ক্যাম্পের ওয়াশ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব ধরনের মালামাল মজুত ছিল। আনুমানিক হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। কারণ ওয়াশ কার্যক্রমের প্রায় সব সরঞ্জামই এই দুটি ওয়্যারহাউসে সংরক্ষিত ছিল।

কারিতাস ওয়্যারহাউসের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর উত্তম কুমার বলেন, আনুমানিক ২টা থেকে ২টা ৫ মিনিটের মধ্যে আগুনের ঘটনা ঘটে। সে সময় নামাজ পড়তে থাকা দুইজন স্টাফ আগুনের শব্দ শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখেন লাইনের শেষ ঘরের ছাদের ওপর প্রথমে আগুন লাগে। দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে মূল ওয়্যারহাউসটি আগুনে পুড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ঘরটি বাঁশ ও নেট দিয়ে তৈরি ছিল এবং ভেতরে প্লাস্টিক আইটেম, পাইপসহ বিভিন্ন মেরামত সামগ্রী মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে এর আগেই বেশিরভাগ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

উখিয়া ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা বলেন, প্রথমে নিকটবর্তী স্যাটেলাইট ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার স্টেশন থেকে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুন ২ টার দিকে লাগলেও পুরো আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। স্টোর হাউসটিতে রোহিঙ্গাদের জন্য কারিতাস বাংলাদেশের সরবরাহ করা প্লাস্টিক সামগ্রী, বস্তা ও বিভিন্ন গৃহস্থালি জিনিসপত্র মজুত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, স্টোর হাউসের পশ্চিম-দক্ষিণ কোণা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে কীভাবে আগুন লেগেছে তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উখিয়াস্থ ১৪ এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মৃত্যুঞ্জয় দে সজল বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় আগুনের সূত্রপাতের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুরো গুদামটি পুড়ে গেছে। তবে কোনো হতাহত নেই।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading