যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে আমেরিকা-ইসরায়েল

যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে আমেরিকা-ইসরায়েল

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, আপডেট ১২:৫৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ আমেরিকা ও ইসরায়েলের হাত ধরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়ে তারা দেশটির হাজার হাজার সামরিক-বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চাপের মুখে রয়েছেন। এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকা-ইসরায়েলের হাতে আর থাকবে না। সোমবার গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের একজন সিনিয়র অফিসার মোহসেন রেজাই গত রবিবার বলেন, ‘যুদ্ধের সমাপ্তি আমাদের হাতে। উপসাগর থেকে ওয়াশিংটনের বাহিনী প্রত্যাহার ও সব হামলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’ অথচ তিন সপ্তাহ আগেও তেহরানের সিনিয়র কর্মকর্তারা এত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না।

ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার মাধ্যমে সংঘাত শুরু হয়েছিল। ওই হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছিলেন। এর পর আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান দ্রুত প্রমাণ করে, তারা ইরানের ওপর বাধা ছাড়াই হামলা করতে পারছে। গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে তারা ইরানের হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। তবে কিছু বড় ক্ষতি হয়েছে আমেরিকাও, যদিও তারা এর জন্য ফ্রেন্ডলি ফায়ার বা নিজেদের ভুল হামলাকে দায়ী করে আসছে। ইরানও পাল্টা ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ঝাঁক পাঠিয়ে প্রতিশোধ নিতে শুরু করে। এসব হামলা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়। ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে ১৫ জন নিহত হয়েছে। আর ইরানে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোয় ইরানের কঠোর হামলা
উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তবে তারা হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে খুব একটা ভালো ফল পাচ্ছে না। তবে এখন এই অঞ্চলে থাকা আমেরিকা ও ইসরায়েলের সম্পদ ও স্থাপনা নিরাপদ নেই। প্রতিদিন ইরান ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ইন্টারসেপ্টরের মজুত ক্রমেই ফুরিয়ে যাচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর। ইসরায়েলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানছে। ইসরায়েলের হাতে আগে যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, তা তারা ক্রমেই হারাচ্ছে।

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে আটকে যাচ্ছে আমেরিকা-ইসরায়েল
ট্রাম্প সংঘাতের সময়কালের জন্য একাধিক সময়সীমা দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার পরেই যুদ্ধ শেষ হবে। অনেক বিশ্লেষক বিশ্বাস করেন, আমেরিকা নিজেই যুদ্ধ শুরু করে। নতুন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ঘোষিত সময়ের মধ্যে যুদ্ধ শেষ না হওয়ার শঙ্কাই বেশি। কারণ ইরানের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হরমুজে মিত্রদের প্রতি তিনি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে কোনো দেশ সাড়া দেয়নি। অথচ ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা হলো হরমুজ মুক্ত করা।
প্রণালিটি বন্ধ হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে ধাক্কা লেগেছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading