সুন্দরবনে আজ থেকে থেকে শুরু হচ্ছে দুই মাসব্যাপী মধু আহরণ মৌসুম
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০১ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ০৯:০০
আজ ভোর থেকে শুরু হচ্ছে সুন্দরবনে দুই মাসব্যাপী মধু আহরণ মৌসুম, যা চলবে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত। এবছর সুন্দরবন বিভাগ মোট ১,৮০০ কুইন্টাল মধু এবং ৯০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে আহরণ লক্ষ্য ৭০০ কুইন্টাল মধু ও ৩০০ কুইন্টাল মোম, আর পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,১০০ কুইন্টাল মধু ও ৬০০ কুইন্টাল মোম।
প্রাথমিকভাবে খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের বিভিন্ন গাছে ফুটেছে রং-বেরঙের ফুল, যার কারণে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহে মুখরিত। তবে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে বৃষ্টি কম হওয়ায় ফুল তুলনামূলকভাবে কম ফুটেছে। তাই পূর্ব সুন্দরবনের এই দুই রেঞ্জে মৌয়ালরা কয়েকদিন পর মধু আহরণ শুরু করবেন। ইতিমধ্যেই তারা নৌকা মেরামত ও মধু আহরণের সরঞ্জাম প্রস্তুত করে রেখেছেন।
পাশাপাশি, মৌয়ালরা বনদস্যু বাহিনীর অপহরণের আশঙ্কায় আতঙ্কিত। সুন্দরবন বিভাগ জানায়, গত বছর অনুমতিপত্রপ্রাপ্ত ২,২৫০ জন মৌয়াল শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ থেকে ৬৫০ কুইন্টাল মধু ও ২০০ কুইন্টাল মোম আহরণ করেছিলেন।
মৌয়ালরা প্রধানত খলিসা, গরান, পশুর ও হারগোজা গাছের ফুলের মধু সংগ্রহ করবেন। সুন্দরী ও গেওয়া গাছে ফুল মে মাসের শেষে ফুটে, কিন্তু জুন থেকে তিন মাসের জন্য বনজ সম্পদ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই ফুলের মধু সংগ্রহের অনুমতি পান না।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার মৌয়াল আব্দুর রশিদ ও মোজাম্মেল হোসেন জানান, গতবছর ১৫ সদস্যের দলের প্রত্যেক সদস্য দুই মণের বেশি মধু পেয়েছিলেন। মৌসুমে খরচ প্রতিজন প্রায় ১২–১৩ হাজার টাকা, আর দুই মণ মধু বিক্রি করে আয় হত প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এবছরও ৪ এপ্রিল থেকে দলবেঁধে মধু আহরণ শুরু করবেন।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও মোহাম্মদ রেজাইল করিম চৌধুরী জানান, মৌয়ালদের ১৪ দিন করে পাস দেওয়া হবে। মৌয়ালদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে, যেমন: মধু সংগ্রহে অগ্নিকুন্ডলি বা রাসায়নিক ব্যবহার না করা, বনজ সম্পদের ক্ষতি না করা, বন্যপ্রাণীর শিকার না করা। নির্দেশনা অমান্য করলে বন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবার আগাম বৃষ্টি ও ফুলের ভালো উপস্থিতির কারণে গতবারের তুলনায় বেশি মধু আহরণ হবে। তবে জুন থেকে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে পুরো মৌসুমে সম্পূর্ণ মধু আহরণ সম্ভব হবে না।
ইউডি/কেএস

