‘জুলাই সনদ উপেক্ষা করা যাবে না, দ্বিমত থাকলেও গ্রহণ করতে হবে’
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৫:০৫
জুলাই সনদ নিয়ে ব্যক্তিগত বা মতাদর্শগত দ্বিমত থাকতে পারে, তবে জাতীয় স্বার্থে এটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আলোকচিত্রী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির জন্য ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও জুলাই সনদকে গ্রহণ করা উচিত।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি: সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শহিদুল ইসলাম বলেন, শিবির-জামাতের কিছু অবস্থানের সঙ্গে আমার মৌলিক দ্বিমত রয়েছে, বিশেষ করে নারীর বিষয়ে তাদের অবস্থান আমি সমর্থন করি না। তারপরও আমি এই সেমিনারে অংশ নিয়েছি, কারণ জুলাই সনদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়। এমন একটি ইস্যুতে দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও সংগ্রামীদের স্মরণ করে বলেন, এই সংগ্রাম শুধু ২০২৪ সালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অনেক আগের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বর্তমান অবস্থান তৈরি হয়েছে। অতীতের সংগ্রাম ও ত্যাগের কথাও তিনি স্মরণ করার আহ্বান জানান।
২০১৮ সালের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজপথে ছবি তুলতে গিয়ে আমি দেখেছি ছাত্র-ছাত্রীরা দেশের মেরামতের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই অভিজ্ঞতা আমার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং আজও সেই ‘মেরামত’ ধারণাকে আমি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখনো নানা সমস্যায় জর্জরিত এবং দেশকে সংস্কার বা মেরামত করা জরুরি। জুলাই সনদ সেই মেরামতেরই একটি প্রচেষ্টা, যা দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও ত্যাগের ফল।
শহিদুল ইসলাম বলেন, বড় ধরনের সংস্কার প্রক্রিয়া সব সময় সহজ ভাবে সম্পন্ন হয় না। যেমন অবকাঠামো মেরামতের সময় কিছু ভোগান্তি হয়, তেমনি রাষ্ট্র সংস্কারেও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে বৃহত্তর স্বার্থে সেই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
জুলাই সনদের বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি আলাদাভাবে বিশদ আলোচনা না করলেও বলেন, ইতো মধ্যে অন্য বক্তারা বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিছু বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও পুরো সনদকে উপেক্ষা করা যৌক্তিক নয়।
গণতান্ত্রিক চর্চার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদে মতভেদ ও বিতর্ক থাকা স্বাভাবিক এবং তা থাকা উচিত। একক আধিপত্যের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে ভিন্নমতকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং যুক্তির মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য এই সংস্কৃতি জরুরি।
সাংবাদিকদের খবর পরিবেশনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে বাছাই করে তথ্য উপস্থাপন করা হলে তা সাংবাদিকতা নয়, বরং প্রোপাগান্ডায় পরিণত হয়। তাই দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ রিপোর্টিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাই।
ইউডি/রেজা

