ডিএনসিসির সাবেক কাউন্সিলর সেন্টুর বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

ডিএনসিসির সাবেক কাউন্সিলর সেন্টুর বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ০৮:০০

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩১ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম সেন্টুর বিরুদ্ধে মামলা করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার নামে আড়াই কোটির বেশি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করে এরই মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন।

সোমবার দুদকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য জানিয়েছেন।

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, শফিকুল ইসলাম সেন্টুর নামে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া যায় যা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। তিনি এই পরিমাণ সম্পদ ভোগ-দখলে রেখে দুদক আইন-২০০৪ এর ২৭(১) ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

দুদক সূত্র জানায়, বর্তমানে কমিশন না থাকায় মামলার অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইন অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগ দেওয়া হলে নতুন কমিশন ওই প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলার অনুমোদন দেবে। এরপর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
সেন্টু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার উপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধানে তার নামে ৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। এইসঙ্গে তার নামে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার ঋণ/দায় পাওয়া যায়। দায়-দেনা বাদে তার নীট সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া যায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার। এক্ষেত্রে পারিবারিক ব্যয়সহ অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৫ কোটি ৫২ লাখ টাকার। ওই সম্পদ অর্জনের বিপরীতে সেন্টুর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী সেন্টুর নামে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভুত সম্পদ রয়েছে।

কমিশন না থাকায় দুদকের উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে আগ্রহী হননি।

জানা গেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান শুরু হয়েছিল। অনেক রাঘবোয়ালের নাম ছিল এই তালিকায়। তাদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, আদালতে মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়। কারও বিরুদ্ধে বিচারকাজও শুরু হয়েছে। ওই সময় সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম সেন্টুর সম্পদ অনুসন্ধানে নামে দুদক। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর অনুসন্ধান শেষ করে মামলার সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading