বাইকুনু জাতের আঙ্গুরে বাম্পার ফলন পেলেন প্রকৌশলী

বাইকুনু জাতের আঙ্গুরে বাম্পার ফলন পেলেন প্রকৌশলী

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৩:৩৫

গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে ছায়া ঘেরা শান্ত গ্রাম বিপ্রবর্থা। এই গ্রামের বাসিন্দা রোকনোজ্জামান পেশায় একজন প্রকৌশলী। তবে, এখন তিনি ঝুঁকেছেন কৃষিকাজে। ইউক্রেনের বাইকুনু জাতের আঙুর চাষ করে ইতিমধ্যেই সাফল্য পেয়েছেন। তার এই জাতের আঙ্গুর চাষের খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই এলাকাবাসী ভিড় করছেন বাগান দেখতে।

আরো এক মাস পর ফল পাকবে। তাই এই আঙুরের স্বাদ নিতে মুখিয়ে আছেন সবাই। রোকনোজ্জামান তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‍“কৃষিকাজে মনোযোগ দিলে ভালো সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব।”

গাজীপুর মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বিপ্রবর্থা গ্রামে রোকনোজ্জামান ৫ একর জমি লিজ নিয়ে মালটা, ড্রাগন, প্যাশন ফ্রুট চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। এক বিঘা জমিতে বাইকুনু আঙ্গুর চাষ করে তিনি রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। দুই শতাধিক গাছে থোকা থোকা সবুজ আঙ্গুর ঝুলছে। কোনো গাছেই ফল কম নেই। এক মাস পরেই ফল পাকলে বেগুনি রঙ ধারণ করবে। খেতে সুমিষ্ট এই আঙ্গুর স্বাদে অনন্য।

বাগানের ম্যানেজার শহীদুল ইসলাম বাবু জানান, এই জাতের আঙ্গুর গাছে ফেব্রুয়ারির দিকে ফুল আসে। চার মাসেই ফল পরিপক্ক হয়ে খাওয়ার উপযোগী হয়। বাংলাদেশে চাষ করা অন্যান্য ফসলের মতোই এর সার ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা করতে হয়। প্রতিদিন শত শত মানুষ আসছেন বাগানে আঙ্গুর ফল দেখতে।

বাগান ঘুরতে আসা ফয়সাল হোসেন বলেন, “আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বাগানটি সম্পর্কে জানতে পারি। প্রথমে বিশ্বাস হয়নি, কিন্তু এসে আশ্চর্য লাগেছে যে, গাজীপুরেও আঙ্গুর চাষ হচ্ছে। দারুণ ফলন হয়েছে। আমরাও চিন্তা করছি এখান থেকে চারা নিয়ে রোপণ করব।”

বাগান মালিক রোকনোজ্জামান বলেন, “আমি পেশায় প্রকৌশল। করোনা মহামারির পর কাজের পাশাপাশি শুরু করি চাষবাদ। এবার শুরু করেছি আঙ্গুর চাষ।”

তিনি বলেন, “এক বিঘা জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ থেকে শুরু করে অন্যান্য পরিচর্যা মিলিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ হয়। আশা করছি, প্রথমবার ফল বিক্রি করে খরচের সব টাকা উঠে আসবে। গাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে ফলন পাওয়া যাবে।”

তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষিকাজের মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রোকনোজ্জামান। বেকারত্ব ঘোচাতে কৃষিকাজে মনোযোগ দেওয়ার আবেদন তার।

গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার হাসিবুল হাসান বলেন, “আমরা খবর পেয়ে আঙ্গুর বাগানের খোঁজ পেয়ে পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। বাগান মালিক আগে থেকেই ড্রাগন চাষ করতেন। এ বছরই তিনি বানিজ্যিকভাবে আঙ্গুর উৎপাদন করেছেন। আমরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি, কি পরিমাণ উৎপাদন হয়, সেটিও খোঁজ রাখা হবে।”

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading