বিচার বিভাগের জন্য আজ কালো দিন: শিশির মনির

বিচার বিভাগের জন্য আজ কালো দিন: শিশির মনির

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৫:৫৬

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে রহিতকরণের প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, বিচার বিভাগের জন্য আজ কালো দিন। সব বিচারক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের আজ কালো ব্যাজ ধারণ করা উচিত।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনজীবী শিশির মনির জানিয়েছেন, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নভেম্বরে সচিবালয়ের অর্ডিনেন্স পাস হয় এবং ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করা হয়। এমনকি এই সচিবালয়ের আংশিক কাজও শুরু হয়েছিল।

আজ সংসদ অধিবেশনে সেই সচিবালয় সংক্রান্ত অর্ডিনেন্সটি রহিত বা বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনাকে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করে শিশির মনির বলেন, এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যে সচিবালয় যাত্রা শুরু করেছিল, আইনি প্রক্রিয়ায় সেটিকে আজ বিলুপ্ত করা হলো।

বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে, হাইকোর্টের এই রায় আপিল নিষ্পত্তির পর কার্যকর হবে। তবে শিশির মনির এই ব্যাখ্যাকে সঠিক নয় বলে মনে করেন। তার মতে, রায় বাস্তবায়নের পর পুনরায় এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি নেতিবাচক লক্ষণ বা ‘ব্ল্যাক সিমটম’ হিসেবে থেকে যাবে।

সিনিয়র এই আইনজীবী বলেন, আমি মনে করি এই ঘটনার জন্য সারা বাংলাদেশের বিচারক এবং আইনজীবিদের কালো ব্যাজ ধারণ করা উচিত, মুখে কালো কাপড় করা উচিত। এইভাবে কী কোনো একটা অঙ্গের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া যায়? এটি হলো একটি বিরল নজির। আমরা আশা করবো এগুলো থেকে সরকার ফিরে আসবে। যে সংগ্রামের ভিত্তিতে বিচার স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামটা এই পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিল খামখিয়ালি করে কিংবা জেদের বসে এই সমস্ত কাজ করার মোটেও সমীচীন হচ্ছে না।

পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায় প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আমি শুনেছি গত কাল অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন তারা আপিল ফাইল করবেন। যেহেতু সার্টিফিকেট আছে, তারা বলেছেন এ রায়ের কার্যকারিতা থাকবে না। দিস ইজ রং ইন্টারপ্রিটেশন। যতক্ষণ পর্যন্ত এই ডাইরেকশনের উপরে কোনো স্থগিতাদেশ না থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই ডাইরেকশন মানতে সরকারসহ সব কর্তৃপক্ষ বাধ্য।

এর পরে সুপ্রিম কোর্টে যান নাই। সিএমপিও ফাইল করেন নাই। সিপি ফাইল করে কোন আদেশও নেন নাই। কিন্তু কার্যকর হবে না এই যে ব্যাখ্যা, দিস ইজ ইন ভায়োলেশন অব দি কনস্টিটিউশন। এই ডাইরেকশনটা থাকা অবস্থায় কি করে আমাদের দেশের পার্লামেন্টেই এই ধরনের আইন পাশ করতে পারেন। বিলুপ্ত করে যে রায়ের কনসনার্স এ এই আদেশ জারি হলো, অধ্যাদেশ জারি হলো। সরকার ছিল না বলে, পার্লামেন্ট ছিল না বলে, সেই অধ্যাদেশের কার্যকারিতাও স্টার্ট হলো। এখন সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিও বের হলো। এখন সেই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করতে গিয়ে অধ্যাদেশে পুরাটাকেই রিপিল করে দেওয়া হচ্ছে। রহিতকরণ করা হচ্ছে। ইট মিনস দিস ইজ রিপিটেড অ্যাটাক অন জুডিশিয়ারি। সংসদে মেজরিটি যারা পাশ করছেন করেন কিন্তু দিস ম্যাটার উইল এগেইন বি ব্রট বিফোর দি সুপ্রিম কোর্ট ফর এ ইন্টারভিউশন। আমরা এই আইনকে চ্যালেঞ্জ করে অবশ্যই উচ্চ আদালতে রিট আবেদন দায়ের করবো।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading