‘আঙুল ট্রিগারেই থাকবে’: আলোচনার আগে আরও একবার প্রতিরোধের ইঙ্গিত ইরানের

‘আঙুল ট্রিগারেই থাকবে’: আলোচনার আগে আরও একবার প্রতিরোধের ইঙ্গিত ইরানের

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৮:৫৯

ইরান সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, পাকিস্তানে প্রতিনিধি দল পাঠানো আসেরিকার সঙ্গে আলোচনায় তেহরানের দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, তাদের ‘আঙুল ট্রিগারেই থাকবে’। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদল এরই মধ্যে ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে।

বৈঠকের প্রাক্কালে মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, তেহরান তার ‘সার্বভৌম অধিকারের ব্যাপারে কোনো আপস করবে না বা পিছু হটবে না।’ তার কথায়, ‘আমরা সংলাপে বিশ্বাস করি এবং যুক্তিবাদী, কিন্তু আমরা আমেরিকাকে বিশ্বাস করি না। ইরানি প্রতিনিধি দল এই আলোচনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিখুঁতভাবে অংশগ্রহণ করছে।’

এদিকে আমেরিকার সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় ইরান ‘পুরোপুরি অবিশ্বাস’ নিয়ে অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, অতীতে বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও ‘কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতার’ কারণে তেহরান ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না।

আরাঘচি আরও জানান, আলোচনায় অংশ নিলেও ইরান তাদের জনগণের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় ‘পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে লড়বে’, যা থেকে বোঝা যায়, সমঝোতার ক্ষেত্রে তেহরান কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়, যদি তা তাদের মূল স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়।

একই সঙ্গে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেও কঠোর বার্তা এসেছে। দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, ইসলামাবাদে চলমান উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনার ফল পুরোপুরি নির্ভর করছে আমেরিকার অগ্রাধিকার কী হবে তার ওপর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, আমেরিকা যদি ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে পারস্পরিক লাভজনক একটি চুক্তি সম্ভব হতে পারে।

তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি আলোচনায় ‘ইসরাইল ফার্স্ট’ দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য পায়, তাহলে কোনো সমঝোতা হবে না এবং ইরান আরও জোরালোভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী আরও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বক্তব্যগুলো স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসলামাবাদে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই তেহরান তাদের কৌশলগত অবস্থান পরিষ্কার করে দিতে চাইছে, যেখানে অবিশ্বাস, শক্ত অবস্থান এবং আঞ্চলিক রাজনীতির হিসাব-নিকাশ একসঙ্গে কাজ করছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading