ধরাবাঁধা নিয়মের মাঝে আশা ভোঁসলে গড়েছিলেন সুরের সাম্রাজ্য

ধরাবাঁধা নিয়মের মাঝে আশা ভোঁসলে গড়েছিলেন সুরের সাম্রাজ্য

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ০০:৫৩

সুরের মায়াজালে সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলেন আশা ভোঁসলে। কখনও চঞ্চলতা, কখনও বিরহ, আবার কখনও গভীর ক্লাসিক্যাল সব ধারাতেই তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। রোববার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রের সাংলিতে এক সংগীতমগ্ন পরিবারে জন্ম আশার। বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন নাট্য অভিনেতা ও শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী। দিদি লতা মঙ্গেশকরের বিশাল ছায়ার নিচে থেকেও নিজের স্বতন্ত্র সত্তা তৈরি করা ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সাধনায় আশা প্রমাণ করেছেন, তিনি কারো অনুকরণ নয়, বরং নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান।

১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে সুরকার ওপি নায়ারের সঙ্গে তার জুটি হিন্দি সিনেমার ধারাই বদলে দেয়। ‘আইয়ে মেহেরবান’ কিংবা ‘ইয়ে হ্যায় রেশমি জুলফোঁ কা আঁধেরা’র মতো গানগুলো সেই সময়েই আধুনিকতার ছাপ রেখেছিল। ক্যাবারে থেকে শুরু করে গজল সবক্ষেত্রেই তার সাবলীল বিচরণ তাকে সমসাময়িকদের চেয়ে আলাদা করে তোলে।

আশা ভোঁসলের জীবনের অন্যতম মোড় ছিল আরডি বর্মন বা পঞ্চমের সঙ্গে তার কাজের রসায়ন। পরবর্তীতে তারা জীবনসঙ্গীও হন। ‘তিসরি মঞ্জিল’ ছবির সেই কালজয়ী গান ‘আজা আজা ম্যায় হুঁ পেয়ার তেরা’ থেকে শুরু করে ‘উমরাও জান’-এর বিরহী গজল ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’ প্রতিটি গানেই আশা ঢেলে দিয়েছেন তার মনের সবটুকু মাধুর্য। ‘ইজাজত’ ছবির ‘মেরা কুছ সামান’ গানটি আজও শ্রোতাদের চোখে জল আনে।

হিন্দি গানের বাইরেও বাংলা গানের এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে এই শিল্পীর। ‘তোমারই চলা পথে’, ‘মন বলছে কেউ আসবে’, কিংবা ‘এমন মধুর সন্ধ্যায়’ গান উপহার দিয়েছেন। সাত দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি গেয়েছেন হাজার হাজার গান।

স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে ভূষিত হয়েছেন ‘পদ্মবিভূষণ’-এ। তবে একসময় নতুনদের সুযোগ করে দিতে নিজেকে প্রতিযোগিতামূলক পুরস্কার থেকে সরিয়ে নেন তিনি।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading