মুদ্রাবাজারে জন্য বেঞ্চমার্ক রেট প্রকাশ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ০৮:৪০
সুদহার নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখন থেকে রেফারেন্স রেট প্রকাশ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোফর, সোনিয়ার মতো টাকার ক্ষেত্রে যা বেঞ্চমার্ক রেট হিসেবে বিবেচিত হবে। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক কলমানি ও ইন্টারব্যাংকিং রেপো রেটের ভিত্তিতে প্রতিদিনের রেফারেন্স রেট প্রকাশ করবে। এর মাধ্যমে পুরো খাতের সুদহার বিষয়ে একটি ধারনা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়। এদিন সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ইস্তেকমাল হোসেন এবং সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী।
সার্কুলারে বলা হয়, ঝুঁকিমুক্ত ও আনসিকিউরড আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার লেনদেনের ভিত্তিতে দু’টি রেফারেন্স রেট প্রকাশ করা হবে। যার একটির নাম হবে– বাংলাদেশ ওভারনাইট ফাইন্যান্সিং রেট (বিওএফআর) এবং ঢাকা ওভারনাইট মানি মার্কেট রেট (ডিওএমএমআর)। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে প্রতি কর্মদিবসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে এই রেট প্রকাশ করা হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রেফারেন্স রেট অনুসরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ঋণ চুক্তি, বন্ড, পরিবর্তনশীল সুদহার ভিত্তিক পণ্য ও অন্যান্য আর্থিক চুক্তিতে সুদহার নির্ধারণে নির্দেশক প্রকৃত লেনদেনের ভিত্তিতে এই রেফারেন্স রেট প্রকাশ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে ‘ঢাকা ইন্টারব্যাংক অফার রেট’ বা ডিবোর প্রচলিত ছিল। তবে এটি ছিল ব্যাংকগুলোর দেওয়া ‘অফার রেট’র ভিত্তিতে। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো যে দরে লেনদেন করতে চায়, তার ওপর ভিত্তি করে। আবার অনেক ব্যাংকই নিয়মিত তথ্য দিত না। ফলে বাজারের প্রকৃত চিত্র আসতো না। এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অটোমেটেড সিস্টেম ব্যবহার করে সরাসরি লেনদেনের তথ্য নিয়ে নতুন বেঞ্চমার্ক রেট দু’টি প্রবর্তন করেছে। লেনদেনের গড় পরিমাণের ভিত্তিতে রেফারেন্স রেট করা হবে।
অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন যাতে রেটকে প্রভাবিত করতে না পারে, সেজন্য পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট দিনে পর্যাপ্ত লেনদেন না থাকে, তবে ‘রোলিং উইন্ডো’ পদ্ধতিতে পূর্ববর্তী কার্যদিবসের তথ্য যোগ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এর ফলে দেশের আর্থিক বাজারে সুদহারের একটি নির্ভরযোগ্য মানদণ্ড তৈরি হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের বাজার সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পাবেন।
ইউডি/কেএস

