নেপালে রাজনীতিবিদদের সম্পদ খতিয়ে দেখতে তদন্ত প্যানেল গঠন
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৭:০৫
নেপালের জেন-জি প্রজন্ম দেশটির রাজনীতিতে এনে দিয়েছে এক আমূল পরিবর্তন। কেপি শর্মা অলির পতনের পর সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব দেয়া র্যাপার বালেন্দ্র শাহকে। ক্ষমতায় এসেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন তিনি।
অতীত ও বর্তমান শতাধিক রাজনীতিক ও কর্মকর্তার সম্পদ তদন্তে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের প্যানেল। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি রাজেন্দ্র কুমার ভান্ডারির নেতৃত্বে এই কমিটি আইনি মানদণ্ডে প্রমাণভিত্তিক তদন্ত চালাবে বলে জানিয়েছে সরকার।
নেপালের সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রমাণভিত্তিক ও আইনগত মানদণ্ড অনুসারে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বাস্তবায়ন করবে। তবে কত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ তদন্তের আওতায় ২০০৮ সালের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা শত শত রাজনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হতে পারে। নির্বাচনের সময় বালেন্দ্র শাহের দল আরএসপি দুর্নিতি দমনকে অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে সামনে রেখে প্রচারণা চালায় এবং দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে হারিয়ে জয়লাভ করে।
এর আগে, ক্ষমতায় এসেই কূটনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন শাহ। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে একসঙ্গে ১৭ দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে নেপালের অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ওপর জোর দেন, যা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে একটি সমন্বিত রাষ্ট্রনির্ভর কূটনীতির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউডি/রেজা

