বজ্রপাতে ৭ জেলায় প্রাণ গেল ১৪ জনের
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার (২৫ এপ্রিল) ২০২৬, আপডেট ২৩:০০
একটানা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবনের মধ্যে অবশেষে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে বৃষ্টি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোববার বিকেল থেকে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিতে কমেছে তাপমাত্রা, ফিরেছে কিছুটা স্বস্তি। তবে এই স্বস্তির মাঝেই দেশের অন্তত সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে গাইবান্ধায়, যেখানে শিশুসহ পাঁচজন মারা গেছেন। ঠাকুরগাঁওয়ে দুইজন, সিরাজগঞ্জে দুইজন এবং জামালপুরে দুইজন বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী ছিলেন মাঠে কাজ করা কৃষক বা গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষ। পঞ্চগড়ে এক চা-শ্রমিক, নাটোরে এক ধানকাটা শ্রমিক এবং বগুড়ায় এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে বা উন্মুক্ত স্থানে থাকায় তারা ঝুঁকির মুখে পড়েন। জামালপুরে বজ্রপাতে দুইজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি চারজন আহত হয়েছেন এবং পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে।
গাইবান্ধায় মারা যাওয়া পাঁচজন হলেন- সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী (১০), একই গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি চৌধুরী (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান মিয়া (২০), ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫) ও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নম্বার আলী (৬৫)। এর মধ্যে দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতের ঘটনায় শামীম মিয়া নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া একটি গরু মারা গেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় মৌসুমের প্রথম ঝড়-বৃষ্টির দিনে বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন। রোববার বিকেলে রায়গঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে এবং তাড়াশ উপজেলার বেত্রাশীন গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আকাশে মেঘে দেখে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে মাঠে কাটা ধান স্তূপ করে রাখছিলেন একই পরিবারের কয়েকজন। এমন সময় বজ্রপাতে হোসেন আলী সেখ (২৫) গুরুতর আহত হন। স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত ব্যক্তি ওই গ্রামের আবদুল হালিম সেখের ছেলে।
এদিকে তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আবদুল হামিদ (৫০)। তিনি মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।
জামালপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একজন ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ রাজীবের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২) ও সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার হাবিব মণ্ডলের ছেলে হাসমত আলী (৪৫)।
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে মো. সোহরাওয়ার্দী (২২) নামের এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন মো. মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩) নামের আরও দুই চা-শ্রমিক।
নাটোরের সিংড়ায় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেংগা পাকুরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ বজ্রপাতের ঘটে। মারা যাওয়া সুমন মুচিখালী গ্রামের মো. আবদুল করিমের ছেলে।
ইউডি/এবি

