ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিকাশে টাকা দিতে দেরি হওয়ায় টর্চ জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিকাশে টাকা দিতে দেরি হওয়ায় টর্চ জ্বালিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ০০:৪০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিকাশে টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরে ত্রিমুখী সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যা থেকে উপজেলার নতুন হাবলি গ্রামের পশ্চিম পাড়ার সাথে পূর্ব পাড়া ও দক্ষিণ আরিফাইল এলাকাবাসীর এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় সংঘর্ষের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয়রা জানান, গেল ২ থেকে ৩ সপ্তাহ আগে নতুন হাবলি গ্রামের পশ্চিম পাড়া এলাকার বোরহান মিয়া পূর্ব পাড়া এলাকার শিহাবের দোকানে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে যান। কিন্তু বিকাশে টাকা পাঠাতে দেরি হওয়ায় বোরহান মিয়া অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

রবিবার বিকেলে শিহাবকে দক্ষিণ আরিফাইল এলাকার রায়হান, ইয়াসিনসহ বন্ধুদের নিয়ে পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঘোরাফেরা করতে যায়। এ সময় স্থানীয় একটি মাঠে ফুটবল খেলা নিয়ে তর্কে জড়ায় শিহাব ও বোরহান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বোরহান তার লোকজনদের নিয়ে শিহাব ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা ও মারধর করে।

খবরটি জানাজানি হওয়ার পর সন্ধ্যায় পশ্চিম পাড়া এলাকাবাসীর সাথে পূর্ব পাড়া ও দক্ষিণ আরিফাইল এলাকার লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় রাতের আঁধারে টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে কয়েক ঘন্টাব্যাপী এই সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইট পাটকেল নিক্ষেপ আর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে সরাইল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ইউডি/কেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading