ইন্দোনেশিয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৪
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৪:২৬
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে ভয়াবহ ট্রেন সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৮০ জনেরও বেশি। দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে এখনও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার গভীর রাতে জাকার্তা সংলগ্ন বেকাসি শহরের একটি রেলস্টেশনে একটি কমিউটার লাইন ট্রেন ও একটি দূরপাল্লার ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিউটার লাইন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র কারিনা আমান্দা।
রাষ্ট্রায়ত্ত রেল কোম্পানি কেএআই মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত ৮৪ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাসের প্রধান মোহাম্মদ স্যাফি জানান, দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে এবং এখনও অনেক যাত্রী ট্রেনের ধ্বংসাবশেষে আটকে আছেন।
তিনি বলেন, সংকীর্ণ জায়গা ও ট্রেনের বগিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়েছে। আটকে পড়াদের বের করতে ধীরে ধীরে ধ্বংসস্তূপ কেটে সরাতে হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ইতোমধ্যে ট্রেন দুটি আলাদা করেছেন এবং ধাতব কাঠামো কেটে যাত্রীদের বের করতে অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার ব্যবহার করছেন।
এর আগে প্রাথমিকভাবে ৫ জন নিহত ও ৭৯ জন আহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হলেও মঙ্গলবার সকালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে পৌঁছায়।
কেএআইয়ের আরেক মুখপাত্র ফ্রানোতো উইবোও জানান, একটি ট্যাক্সি লেভেল ক্রসিংয়ে কমিউটার ট্রেনটিকে আঘাত করলে সেটি লাইনের ওপর থেমে যায়। এরপরই পেছন থেকে দ্রুতগতির দূরপাল্লার ট্রেনটি এসে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেন দুটি হলো জাকার্তা-চিকারাং কমিউটার ট্রেন এবং জাকার্তা-সুরাবায়া রুটের আরগো ব্রোমো অ্যাংগ্রেক দূরপাল্লার ট্রেন, যা দেশটির অন্যতম দ্রুতগতির সেবা হিসেবে পরিচিত।
ইন্দোনেশিয়ার রেলপথে এ ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০১০ সালে মধ্য জাভায় একটি ট্রেন আরেকটি ট্রেনকে ধাক্কা দিলে ৩৬ জন নিহত হন। এছাড়া ২০১৫ সালে পশ্চিম জাভায় একটি ট্রেন ও মিনিবাসের সংঘর্ষে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
ইউডি/রেজা

