আজ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা

আজ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০১ মে, ২০২৬, আপডেট ১০:৫০

আজ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা। বুদ্ধপূজা ও শীল গ্রহণ, পিণ্ডদান, ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশসহ নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সারাদেশে দিনটি উদযাপন করবেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

বৌদ্ধধর্ম মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতেই মহামতি বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। বুদ্ধের শুভ জন্ম, বোধিজ্ঞান ও মহাপরিনির্বাণ লাভ-এ তিন স্মৃতিবিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত। বুদ্ধের মূল জীবনদর্শন হচ্ছে অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সহাবস্থান করা। অহিংসবাদের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের কালজয়ী বাণী— ‘বৈরিতা দিয়ে বৈরিতা, হিংসা দিয়ে হিংসা কখনো প্রশমিত হয় না। অহিংসা দিয়ে হিংসাকে, অবৈরিতা দিয়ে বৈরিতাকে প্রশমিত করতে হবে’— আজকের অশান্ত বিশ্বে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তার মতে, কেউ চণ্ডাল বা ব্রাহ্মণ হয়ে জন্ম নেয় না বরং কর্মই তাকে ব্রাহ্মণ বা চণ্ডাল হিসাবে গড়ে তোলে।

পবিত্র বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে বৌদ্ধবিহারগুলোয় বুদ্ধপূজা, প্রদীপ প্রজ্বালন, শান্তি শোভাযাত্রা, সমবেত প্রার্থনা এবং ধর্মীয় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে রাজধানীর সবুজবাগ ধর্মরাজিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ। সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় ‘বুদ্ধপূর্ণিমার তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

অন্যদিকে, মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে সন্ধ্যা ৬টায় বুদ্ধপূর্ণিমার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।

পবিত্র বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তার সরকার ধর্ম নিয়ে কোনো রাজনীতি করতে চায় না। বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। ধর্ম-বর্ণ-বিশ্বাস নির্বিশেষে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে– এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশে সব ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। আপনারা নিজেদের কখনও সংখ্যালঘু ভাববেন না। আমরা সবাই বাংলাদেশি।’

সচিবালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বুদ্ধের প্রতিকৃতি উপহার দেওয়া হয়।

সারাদেশের বৌদ্ধবিহারগুলোতে প্রদীপ প্রজ্বালন, শান্তি শোভাযাত্রা ও সমবেত প্রার্থনার মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করা হচ্ছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading